দিনহাটা: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। শনিবার দিনহাটা-২ ব্লকের ভিলেজ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতে জনসংযোগে গিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেখানে রাস্তা সংস্কারের জন্য গ্রামবাসী দাবি জানালে তিনি জানান, ভোট না পেলে একটা পাথরও ফেলা হবে না।
দলের কর্মীদের তরফে জনসংযোগের ভিডিও পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই উদয়নের মন্তব্যকে ঘিরে রবিবার চর্চা শুরু হয়েছে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে। যদিও সেই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
শনিবার বিকেলে দিনহাটা-২ ব্লকের ভিলেজ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭/২৭৪ এবং ৭/২৭৫ নম্বর বুথ এলাকায় জনসংযোগে যান মন্ত্রী। সেখানে গ্রামবাসী এলাকার রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তাঁকে। উত্তরে মন্ত্রী বললেন, ‘ভোট না পেলে একটা পাথরও ফেলব না।’ এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘নিশীথ প্রামাণিককে ভোট দিয়েছিলে, তাতে কী লাভ হয়েছে? তারপরেও বাজারে এসে এখানে-ওখানে ঘোরাঘুরি করি। তোমাদের ওপর আমার খুব রাগ আছে।’ গত লোকসভা নির্বাচনে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এগিয়ে থাকলেও এই দুই বুথে তিনশোরও বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। এদিন সেই বুথে জনসংযোগের সময় বাসিন্দারা রাস্তার দাবি জানালে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
তৃণমূলের ব্লক মহিলা সভানেত্রী ডালিয়া চক্রবর্তীর কথায়, ‘লোকসভায় সামান্য ভোট কম পাওয়ায় মন্ত্রী হাসির ছলে কথা বলেছেন। এটি রাজনৈতিক শর্ত নয়, বিরোধীরা সবকিছুতেই রাজনীতি খুঁজে বেড়াচ্ছে।’
মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে তৃণমূলের তরফে ‘অভিমানভরা হাস্যরসাত্মক’ মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও বিরোধীরা একে সরাসরি ‘ভোটের শর্ত’ হিসেবে দেখছে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, ‘ভয় দেখানো এবং গুন্ডামি করাই তৃণমূলের রাজনীতি। একজন মন্ত্রী হয়ে কীভাবে জনসংযোগ করতে গিয়ে ভোটের শর্ত রাখেন? এটাই প্রমাণ করে তারা ২০২৬ সালে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে।’
তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে উদয়ন গুহকে ‘নোটোরিয়াস ক্রিমিন্যাল’ বলা হয়েছে। বিরোধী নেতার বক্তব্য, ‘সরকার তার নিজের কাজ করবে, জনগণ নিজের সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু তৃণমূল সবকিছুতেই রাজনীতির রং লাগাতে ব্যস্ত।’
শনিবার মন্ত্রীর সঙ্গে জনসংযোগে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দীপককুমার ভট্টাচার্য, ব্লক মহিলা সভানেত্রী ডালিয়া চক্রবর্তী, অঞ্চল চেয়ারম্যান কেশব নাহা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি সুব্রত নাহা প্রমুখ।
