উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ নাগরিক বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্য নগরী করাচি (Karachi)। বেশ কিছু দিন ধরেই এই মেগাসিটিতে তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট চলছিল। এবার তার সঙ্গে একযোগে যোগ হয়েছে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট (Disaster)। ত্রিমুখী এই সঙ্কটের জেরে শহরের কোটি কোটি বাসিন্দার জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন, যার ফলে শহর জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
করাচির বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগ, দিনের পর দিন ধরে লাইনে গ্যাস না থাকায় তাঁরা বাড়িতে রান্নাবান্না পর্যন্ত করতে পারছেন না। এর ওপর পানীয় জলের তীব্র আকাল পরিস্থিতিকে আরও নারকীয় করে তুলেছে। নিত্যদিনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে সাধারণ মানুষকে বাজার থেকে চড়া দামে জল কিনতে হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন তৎপরতার রয়েছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে এলাকার পর এলাকা জুড়ে তীব্র জনরোষ (Civil Unrest) ছড়িয়ে পড়ছে।
করাচির ‘ফেডেরাল বি’ এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “গ্যাসের পাইপলাইনে দিনের পর দিন সরবরাহ বন্ধ। বাড়িতে রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। এভাবে কতদিন চলা সম্ভব?”
যদিও ‘সুই সাদার্ন গ্যাস কোম্পানি’ (SSGC) দাবি করেছে যে, গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু কিছু পকেটে কারিগরি ত্রুটির কারণে সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু সংস্থার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্য দিকে, করাচির এক বধূ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, “তিন দিন ধরে আমাদের এলাকায় এক ফোঁটা জলও আসেনি। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীরা সবাই মিলে চাঁদা তুলে বিপুল টাকা খরচ করে বেসরকারি ট্যাঙ্কার (WaterTanker) ভাড়া করেছি। জল আর গ্যাসের পেছনেই যদি সব টাকা চলে যায়, তবে আমরা খাব কী?”
বর্তমানে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চলছে প্রচণ্ড গরম। করাচির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই ওপরে, কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি। এই অগ্নিগর্ভ আবহাওয়ার মধ্যেই গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সঙ্কট।
শহরের বাসিন্দাদের দাবি, দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না (Load Shedding)। তীব্র গরমে ফ্যান-এসি না চলায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক চাহিদার এই চরম ঘাটতি করাচির বাসিন্দাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুব্ধ নাগরিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়লেও, পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার কারণে এই মুহূর্তে কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র বের করতে পারছে না স্থানীয় পুরসভা ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই সঙ্কটের সমাধান না হলে করাচির জনরোষ যেকোনো সময় বড়সড় নাগরিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।
