Bidhannagar Police | তদন্ত এগোলেও বাধা চাপ, প্রভাবশালীকে আড়াল করতে গিয়ে অস্বস্তিতে বিধাননগর পুলিশ

Bidhannagar Police | তদন্ত এগোলেও বাধা চাপ, প্রভাবশালীকে আড়াল করতে গিয়ে অস্বস্তিতে বিধাননগর পুলিশ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী

আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে তদন্তকারীরা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘স্বপন কামিল্যাকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ করে, প্রশান্ত বর্মনের নিউটাউনের এবি-৬৭  নম্বর বাড়ির একটি ঘরে আটকে রেখে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাঠি, বাঁশ ও বেল্ট দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয়।’ রিপোর্টে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি অত্যন্ত জঘন্য এবং পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ।’

মারধর করে খুনের সময় প্রশান্ত যে উপস্থিত ছিলেন তা মামলার অন্য আসামিরা (যাঁরা ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছেন) স্বীকার করেছেন। সেই স্বীকারোক্তির নথিও আদালতে জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। নৃশংসতার প্রমাণ হিসাবে স্বপন খুনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের একাংশের উল্লেখ করেছেন তাঁরা। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘ভোঁতা অস্ত্রের ক্রমাগত আঘাতে মাথার ভেতরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের ফলে সৃষ্ট ‘হেমোরেজিক শক’ বা শারীরিক শকের কারণেই মৃত্যু হয় স্বপন কামিল্যার। ডাক্তারের মতে, এই মৃত্যুর প্রকৃতিটি পুরোপুরি একটি হত্যাকাণ্ড।’’ পদ্ধতি মেনে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য নথি সংরক্ষণও করা হয়েছে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও যেভাবে তদন্ত হয়েছে তাতে খুব একটা ফাঁকফোকর থাকার কথা নয়। প্রশান্তকে (Prasanta Barman) গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রামাণ্য নথিই রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে। তা সত্ত্বেও উপর মহল ও প্রভাবশালী চাপে (Political Strain) প্রশান্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ না হওয়ায় বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police) কমিশনারেটের নীচুতলার পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

কমিশনারেটের একাধিক আধিকারিকের অভিযোগ, মামলার গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে এবং প্রশান্তকে আড়াল করতে শুরু থেকেই প্রভাবশালী মহলের পক্ষে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরের নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়ে অনেক ক্ষেত্রে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও বেআইনি কাজ করতে হয়েছে, যা আদর্শ পুলিশি তদন্তে কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু এতসব প্রতিকূলতা এবং হুমকির মুখে দাঁড়িয়েও মাথা নত করেননি মামলার তদন্তকারীরা। একটি খুনের মামলার ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরপেক্ষতা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা উচিত, স্বপন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার খুব একটা অন্যথা হতে দেননি তাঁরা।

তদন্তকারী দল শুরু থেকেই প্রতিটি আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে যে, স্বপনকে সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিত উপায়ে এবং চরম নৃশংসতার সঙ্গে খুন করা হয়েছে। এমনকি মামলাটির চার্জশিটেও প্রশান্তর এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সমস্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ সাজিয়ে দেওয়ার পরেও শুধু অদৃশ্য বাধার কারণে প্রশান্তর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। এই চরম বাস্তবতাই এখন বিধাননগর পুলিশের সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ অফিসারদের ক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলেছে।  তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ফুঁসছেন অনেকেই। বিধাননগর কমিশনারেটের এক পদস্থ আধিকারিকের কথা, ‘যা হচ্ছে তাতে আমাদের মুখ পুড়ছে। সার্বিকভাবে কমিশনারেটের সব অফিসার বা কর্মীদের বদনাম হচ্ছে। একটা আসামি বাঁচাতে এভাবে ফোর্সের বদনাম হতে দেওয়াটা ঠিক নয়। ওই বিডিওর বিরুদ্ধে আইন মেনে দ্রুত পদক্ষেপ হওয়া জরুরি। তা না হলে নিষ্ঠাবান কর্মী, আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে যাবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *