উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে যে ক’টি পরিবার নিজেদের মেধা ও সাফল্যে অনন্য নক্ষত্র হয়ে জ্বলে উঠেছে, তাদের অন্যতম শীর্ষ নাম ‘পেজ পরিবার’। সেই ঐতিহাসিক পরিবারের অন্যতম স্তম্ভ, প্রাক্তন অলিম্পিয়ান (Olympian) তথা ভারতীয় মহিলা বাস্কেটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক জেনিফার পেজ (Jeniffer Paes) আর নেই। রবিবার সকালে ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ ও অসম লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
মাত্র কয়েক মাস আগেই গত ১৪ আগস্ট প্রয়াত হয়েছিলেন লিয়েন্ডার পেজের (Leander Paes) পিতা, প্রাক্তন অলিম্পিয়ান হকি তারকা ডক্টর ভেস পেজ। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার মাতৃবিয়োগ ঘটল ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস নক্ষত্র লিয়েন্ডার পেজের। পেজ পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে জেনিফারের প্রয়াণের এই বেদনাদায়ক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেনিফার পেজ কেবল একজন তারকা ক্রীড়াবিদের মা বা স্ত্রী ছিলেন না, দেশের বাস্কেটবল কোর্টে তিনি নিজেই ছিলেন এক অনন্য উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তাঁর ক্ষিপ্রতা ও অধিনায়কত্ব তৎকালীন সময়ে ভারতীয় মহিলা বাস্কেটবলকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল।
ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে পেজ পরিবার এক অভূতপূর্ব ও অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। বাবা ভেস পেজ, মা জেনিফার পেজ এবং পুত্র লিয়েন্ডার পেজ—তিনজনই অলিম্পিক্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন বিরল গৌরব ভারতের আর কোনো ক্রীড়া পরিবারের নেই।
খেলার মাঠের বাইরে জেনিফারের আরও একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর। তাঁর ব্যক্তিত্বে একদিকে যেমন ছিল খেলোয়াড়সুলভ লড়াকু মানসিকতা, অন্যদিকে ছিল এক অভিজাত পারিবারিক ঐতিহ্য।
ব্যক্তিগত জীবনে ভারতের প্রাক্তন হকি তারকা ডক্টর ভেস পেজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও, শেষ জীবনে তাঁদের সম্পর্কে এক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন না। তবে পারস্পরিক সেই দূরত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁদের যৌথ উত্তরাধিকার লিয়েন্ডার পেজ আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।
ক্যানসারের মারণ থাবায় জেনিফারের এই প্রস্থান ভারতীয় বাস্কেটবল জগৎ তো বটেই, সামগ্রিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল। জেনিফার পেজের প্রয়াণে ক্রীড়ামহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
