উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কোরবানির ইদের ঠিক আগেই গবাদি পশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ওপর রাজ্য সরকার এক নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। আর এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এক ধরনের ‘অস্থিরতা’ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) সহ রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ও সমস্যার কথা তুলে ধরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) চিঠি পাঠালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।
তবে এই চিঠির নেপথ্যে রয়েছে এক পরম নাটকীয় রাজনৈতিক মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সূত্রের খবর, তৃণমূলের কয়েকজন সংখ্যালঘু বিধায়ক এই নয়া বিধি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁরা বিধানসভার পরিষদীয় দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর বা ‘উদ্যোগ’ দেখতে পাননি। এর পরেই ক্ষোভ ও বাধ্যবাধকতা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ গোপনে কংগ্রেসের ‘অধীরদা’র দ্বারস্থ হন। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে পৌঁছাল অধীরের এই চিঠি।
প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইনকে হাতিয়ার করে বেশ কিছু কড়া নিয়ম জারি করেছে। গত ১৩ মে জারি হওয়া এই সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
- প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না।
- ১৪ বছর বয়সের কম কোনো গবাদি পশুকে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
- মাংস কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অথবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ দফতরের আগাম লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। শুভেন্দুকে লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, এই নির্দেশিকা জারির পর থেকে সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বিবিধ সংস্কৃতির মিলনভূমি। বহু বছর ধরে এখানে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মতো করে ধর্মাচরণ করে আসছেন। নিজের জেলা মুর্শিদাবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই অস্থিরতা দূর করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারেরই। প্রত্যেকটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী পরামর্শ দিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ও ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। প্রশাসন যদি প্রতিটি এলাকায় কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেয়, যেখানে মানুষ তাঁদের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মাচরণ করতে পারবেন, তবেই এই অযথা বিভ্রান্তি কাটবে। এর ফলে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
