পলাশবাড়ি: ভাঙা টিনের চালের ফুটো দিয়ে বর্ষায় জল পড়ে। সেই জল আটকাতে ঘরের চালের ওপর টাঙানো হয়েছে একটা প্লাস্টিকের ত্রিপল। এখনও মেলেনি কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর। চরম প্রতিকূলতার এমন এক অন্ধকার ঘরে বসেই আলো ছড়াল শিবানি তালুকদার। আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পলাশবাড়ির (Palashbari) শিলবাড়িহাট হাইস্কুলের এই ছাত্রী উচ্চমাধ্যমিকে (HS Examination End result 2026) ৯৩ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কানাঘাই গ্রামের এই মেয়ের কৃতিত্বে খুশি শিক্ষক থেকে প্রতিবেশী সকলেই। তবে অভাবের সংসারে এত বড় সাফল্যের পরও শিবানির চোখে-মুখে এখন শুধুই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।
শিবানির বাবা মুকুল তালুকদার ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। ভোটের ঠিক আগে তিনি বাড়ি ফেরেন এবং মেয়ের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য এখনও বাড়িতেই রয়েছেন। অন্যদিকে, মা অনিতা দাস তালুকদার দিনরাত এক করে বিড়ি বাঁধার কাজ করেন। ছোট বোন অঞ্জলি তালুকদার বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর এই সংসারে দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের কাছে এক প্রকার মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।
চরম আর্থিক সংকটের কারণে শিবানির পক্ষে কোনো আলাদা গৃহশিক্ষক রাখা সম্ভব হয়নি। সব বিষয়েই সে অন্যদের সাথে ব্যাচে গিয়ে টিউশন পড়েছে। তবে এই সাফল্যে শিবানির পাশে সবসময় এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিলবাড়িহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পীযুষকুমার রায় জানান, “আমাদের স্কুলের মেয়েদের মধ্যে শিবানিই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। আমরা ওর এই কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলোর কথা জানি। স্কুল থেকে ওকে সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে এবং আগামীতেও করা হবে।”
ভবিষ্যতে একটি ভালো কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science) নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার স্বপ্ন রয়েছে শিবানির। কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি সেই স্বপ্নের পথে মস্ত বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেয়ের এই দুশ্চিন্তা কাটাতে বাবা মুকুল তালুকদার বলেন, “এতদিন যখন কষ্ট করে মেয়েকে পড়িয়েছি, আগামীদিনেও যতদূর পারি লড়াই করব। তবে আমরা আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ঘর পাইনি। এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারিভাবে কোনো সাহায্য বা স্কলারশিপ পাওয়া যায়, তবে মেয়েটার স্বপ্নপূরণ হতে পারত।”
