অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: জারি প্রশাসনের সতর্কবার্তা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। খরস্রোতা নদীতে হড়পার সতর্কতা উড়িয়ে, নিষেধের তোয়াক্কা না করেই নদীপথে হেঁটে জয়ন্তীর (Jayanti) মহাকাল দর্শনে গেলেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। সোমবার জয়ন্তীতে ধরা পড়ল এমনই বিপজ্জনক ছবি। আর এর জেরেই বন দপ্তর (Forest Division) এবং পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নদীতে নামার মুখেই জ্বলজ্বল করছে প্রশাসনের পোস্টার। তাতে লেখা, ‘খরস্রোতা ও হড়পা থাকার কারণে কেউ জয়ন্তী নদীতে নামবেন না।’ কিন্তু নির্দেশিকা যেন শুধুই কাগজে-কলমে। এদিন নদী পার হয়ে ছোট ও বড় মহাকাল দর্শনে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। জয়ন্তী বাজারে ও নদীর ধারে পুলিশ এবং বনকর্মীদের দেখা গেলেও, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজনকে সতর্ক করতে দেখা গেলেও, নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে মহাকালের দিকে রওনা হওয়া পুণ্যার্থীদের কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।
বিষয়টি জানতে ডিএফডি দেবাশিস শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বক্সার এক বনকর্তা বলেন, ‘জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় কর্মীরা এদিন দায়িত্বে ছিলেন। চোখ এড়িয়ে হয়তো কেউ যেতে পারেন। সেটা খোঁজ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, কালচিনি থানার ওসি অমিত শর্মা জানান, এদিনও নজরদারির জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল।
উল্লেখ্য, শ্রাবণ মাসের শুরুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, শিব তীর্থগুলির মধ্যে জয়ন্তী মহাকাল রয়েছে এবং পুণ্যার্থীদের জন্য ব্যবস্থা থাকবে। তখন থেকেই বিতর্ক ছড়ায়। কারণ, মহাকালে যেতে বক্সা টাইগার রিজার্ভের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। বর্ষায় তিন মাস ওই রাস্তায় যাতায়াত বন্ধ থাকে। এছাড়া মহাকাল গুহাটি ভুটান দেশের সীমানায় অবস্থিত। বিগত বছরগুলিতে কড়াকড়ি থাকলেও এবার বিধিনিষেধ শিথিল করে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জয়ন্তী পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বন দপ্তরের এই নিয়ম বদল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নদীতে নামার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিলই। কারণ ভুটানে বৃষ্টি হলে জয়ন্তী নদীর ভয়ংকর রূপ দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রথম সোমবার নিয়ম মানা হলেও দ্বিতীয় সোমবার থেকে তা আর মানা হচ্ছে না। অনেকেই গত তিন সপ্তাহ ধরে মহাকালে গিয়েছেন।
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), কোচবিহার ও অসমের পুণ্যার্থীরা গাড়ি রেখে হেঁটে মহাকাল দর্শনে যান। কোচবিহার থেকে আসা গাড়ির চালক শ্রীকান্ত বর্মন বলেন, ‘আমার গাড়ি ভাড়া করে কয়েকজন এসেছে। জয়ন্তীতে নামিয়ে দিয়েছি। বিকেলের মধ্যে ওরা মহাকাল থেকে ফিরে আসবে বলেছে। তারপর আবার তাদের নিয়ে ফিরব।’ রাজাভাতখাওয়া গেটে নিয়ম শিথিল করলে যে এমন বেপরোয়া পরিস্থিতি হতে পারে, তা অনুমান করেছিলেন অনেকেই।
আগে এখানে ভাণ্ডারা দেখা না গেলেও, এবার তাও দেখা গিয়েছে। তবে বনকর্মীরা জানাচ্ছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফের পুরোনো নিয়মই জারি থাকবে। স্থানীয়রা ছাড়া কাউকেই গেট পার হতে দেওয়া হবে না।

