দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: পুরসভার প্রশাসনিক অচলাবস্থার আঁচ এবার পড়ল জনগণনার (Census) কাজেও। এগজিকিউটিভ অফিসারের পদ ফাঁকা থাকায় কার্যত অভিভাবকহীন পুরসভা। আর পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারই ছিলেন সেন্সাসের চার্জ অফিসার। ফলে তাঁর বদলির পর জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয়, দৈনন্দিন কাজের রিপোর্ট দেবেন কাকে? মাঠপর্যায়ের কাজ কে মনিটর করবেন? কোনও সমস্যা হলে ছুটবেনই বা কার কাছে?
আলিপুরদুয়ার পুরসভা (Alipurduar Municipality) এলাকায় সেন্সাসের কাজ শুরু হয়েছে। এনুমারেটর থেকে শুরু করে সুপারভাইজার, বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি, তথ্য যাচাই, রিপোর্টিং এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে চার্জ অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই পদেই থাকা আধিকারিক বদলি হয়ে যাওয়ায় এখন সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার ইউজেন মোক্তানের বদলির পর তাঁর জায়গায় অনিরুদ্ধ লাহিড়ি দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তাঁরও বদলির নির্দেশ আসে। ১৪ অগাস্ট রাতে সেই নির্দেশ আসার পর থেকে পুরসভায় নতুন করে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন এগজিকিউটিভ অফিসার কে আসবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সেন্সাসের দায়িত্বে থাকা পুরসভার এক কর্মীর কথায়, ‘আমাদের প্রতিদিনের কাজের আপডেট এবং মাঠপর্যায়ে যে সমস্যাগুলি হচ্ছে, সেগুলি নির্দিষ্ট আধিকারিককে জানাতে হয়। এখন এগজিকিউটিভ অফিসার না থাকায় কার কাছে রিপোর্ট দেব, কে আমাদের কাজ মনিটর করবেন, সেটা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করব, সেটাও স্পষ্ট নয়। দ্রুত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নির্দিষ্ট না হলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।’
কর্মীদের বক্তব্য, সেন্সাসের মতো বড় কর্মযজ্ঞে শুধু মাঠে কর্মী নামালেই কাজ শেষ হয় না। প্রতিটি স্তরে নিয়মিত সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর প্রয়োজন হয়। কোনও এলাকায় কর্মী কোনও সমস্যায় পড়লে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। সেই জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, পুরসভার প্রশাসনিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নয়। নির্বাচিত পুর বোর্ড নেই, প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে। নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে কাউন্সিলারদের মামলা চলছে আদালতে। তার মধ্যেই এগজিকিউটিভ অফিসারের পরপর বদলি পুরসভার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। পুরসভার কর্মীদের আশঙ্কা, এই অচলবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু সেন্সাসের কাজেই নয়, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজেও পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পুরসভার বিদায়ি এগজিকিউটিভ অফিসার অনিরুদ্ধ লাহিড়ীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

