জামালদহ: বিঘার পর বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের! প্রায় ৩৫ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ থেকে ধানের শীষ বেরোচ্ছে না। যার ফলে বাধ্য হয়ে ধানের গাছ কেটে বাড়ির গৃহপালিত পশুদের খাওয়াচ্ছেন চাষীরা। ঘটনাটি মেখলিগঞ্জের জামালদহ (Jamaldah) গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬৫ উছলপুকুরি ও খানজালুবাড়ি এলাকার। এই এলাকার প্রায় ৩৫ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। জানা গিয়েছে, সঠিক সময়ে চাষবাস করার পরেও ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চাষীরা ধান গাছ কেটে নিয়ে গিয়ে নিজেদের গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছেন। কয়েক মাস আগে আলুর দাম না থাকায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে সমস্যায় ভুগছিলেন চাষীরা। এই অবস্থায় তাদের ধানের জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ভয়ানক সমস্যায় পড়েছেন চাষীরা। কারণ ধান চাষে বিঘা প্রতি খরচ দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। ফলে,ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে মাথায় হাত চাষীদের।
কিন্তু ধানের গাছ থেকে শীষ না বেরোনোর বা ফসল নষ্টের কারণ কী? জানা গেছে, জামালদহের ভুটকুড়া ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানির তরফে গ্রামের বেশ কয়েক জন চাষীকে ধানের নতুন প্রজাতির বীজ সরবরাহ করা হয়েছিল। ধানের চারা রোপণ করে সঠিক সময়ে জমিতে বপনও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধানের শীষ বেরোচ্ছে না। পাশের অন্যান্য জমিতে ধানের শীষ বেরিয়ে গেলেও, এই প্রায় ৩৫ বিঘা ধানের জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে ধানের বীজ সরবরাহকারি সংস্থার তরফে প্রকাশ বর্মন বলেন, “প্রাথমিক ভাবে নতুন প্রজাতির ধানের বীজ পরীক্ষা করার জন্য তাদের ধান বীজ দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা কেন্দ্র (ICAR-Nationwide Rice Analysis Institute) ওডিশার কটক থেকে তাদের পরীক্ষামূলক ভাবে ধানের বীজ দেওয়া হয়। সেগুলো চাষীদের সরবরাহ করা হয়েছে। পাঁচটি ভ্যারাইটি তাদের দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রজাতির বীজ থেকে ধানের গাছ হলেও শীষ বেরোচ্ছে না। এই বিষয়ে ওড়িশার কটকে ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ চলছে।” তিনি আরও বলেন, “ফসলের ক্ষতির বিষয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা (Assistant Director of Agriculture or ADA) অমিত কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
স্থানীয় চাষী অনন্ত বর্মন তিনি জানান, তার তিন বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপন করেছেন কিন্তু তারপর ধান থেকে শীষ বেরোচ্ছে না। এমন অবস্থায় তিনি আতঙ্কে রয়েছেন কারণ চারপাশের সমস্ত এলাকায় ধানের ফসলে শীষ বেরোলেও তার জমিতে শীষ বেরোচ্ছে না।
এ বিষয়ে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জবা বর্মন তিনি জানিয়েছেন যে, “এলাকার চাষীদের ধানের যে সমস্যা হয়েছে, আমি সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব এবং ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জানাবো।”
মেখলিগঞ্জ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা (Assistant Director of Agriculture) অমিত কুমার দাস বলেন, “চাষীদের ধানের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। সরকারিভাবে মেখলিগঞ্জ ব্লকে ধানের বীজ চাষীদের সরবরাহ করা হয়েছে, কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ায় কোনো খবর নেই। তবে জামালদহের ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের রাজ্য সরকারের তরফে বীজ দেওয়া হয়নি। তারা অন্য কোনো সংস্থা থেকে বীজ নিয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা ফসল বিমা করে থাকলে ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন।”

