Jalpaiguri Municipality Board Formation | জলপাইগুড়ি পুরসভায় ফের নাটকীয় মোড়; কাউন্সিলরের সরে দাঁড়ানোয় থমকে গেল বোর্ড গঠন, বিপাকে তৃণমূল   

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


জলপাইগুড়ি: আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক প্রাক্কালে জলপাইগুড়ি পুরসভায় নতুন করে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলো (Jalpaiguri Municipality Board Formation)। আদালতের বেঁধে দেওয়া ৭ দিনের মধ্যে বোর্ড গঠনের শেষ দিন বুধবার হওয়ায় জোর প্রস্তুতি শুরু করেছিল তৃণমূল শিবির। কিন্তু ঠিক তার আগের দিন মঙ্গলবার বিকেলে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিংকু বিশ্বাস বোর্ড গঠনের সেই সভা ডাকার সিদ্ধান্ত থেকে হঠাৎই সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করায় জলপাইগুড়ির পুর রাজনীতিতে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটেছ।

পুর-আইন অনুযায়ী তিনজন কাউন্সিলরের (১৫ নং ওয়ার্ডের তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৮ নং ওয়ার্ডের উত্তম বোস এবং ২২ নং ওয়ার্ডের পিংকু বিশ্বাস) সই করা চিঠি দিয়ে সমস্ত কাউন্সিলরকে নিয়ে সভা ডাকার নিয়ম ছিল। সেইমতো তাঁরাই সভা ডেকেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে হুট করেই পিংকু বিশ্বাস জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন যে, তিনি ওই সভা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি। জেলা সহ-সভাপতি বুবাই কর ও যুবমোর্চা জেলা সভাপতি পলেন ঘোষ দাবি করেন, পিংকু বিশ্বাসের এই চিঠির পর আগামীকাল বুধবারের ওই বোর্ড গঠনের সভার আর কোনো আইনি বৈধতাই থাকে না। এমনকি আরও কিছু কাউন্সিলর তাঁদের সংস্পর্শে রয়েছেন বলেও দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পিংকু বিশ্বাস দাবি করেছেন, বর্তমান পৌর রাজনীতির জটিল পরিস্থিতি দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকে ভুল বুঝিয়ে ওই চিঠিতে সই করানো হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি, যদিও এর নেপথ্যে কোনো চাপ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আপাতত পুজো উপভোগ করার কথা বলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, এই আকস্মিক পদক্ষেপে গভীরভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম বোসকে। পিংকু বিশ্বাসের দলবদল বা সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি “বিক্রি” হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। চোখে জল নিয়ে তিনি জানান, তাঁরা লড়াই ছাড়ছেন না এবং নতুন করে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিজ্ঞ মহলের মতে, আদালতের নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে নতুন করে সভা ডাকা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পৌরবোর্ড গঠন এবার আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। ইতিমধ্যে ডিএমডিসি মিহির কর্মকারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে জলপাইগুড়ি পৌরসভার নিয়ন্ত্রণ কি তবে পাকাপাকিভাবে প্রশাসকের হাতেই চলে যাবে, নাকি নতুন কোনো মোড় নেবে—সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *