জলপাইগুড়ি: বিতর্ক নিয়েই চেয়ারম্যান পদে শপথ নিলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। শপথের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘বিতর্ক ছিল, আছে, থাকবেই। তার মধ্য দিয়েই শহরের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে।’ তবে সৈকতকে নিয়ে দল যে অস্বস্তিতে তা এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই পরিষ্কার। শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান শেষ হতেই সাংবাদিকদের এড়িয়ে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে নেতারা। অন্যদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে নিগ্রহের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে রিপোর্ট জমা দিতে বললেও এদিন প্রধান শিক্ষিকা দাবি করেছেন, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে গৌতম দেব থেকে শুরু করে তৃণমূলের কোনও নেতা-মন্ত্রী ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। শিক্ষিকার দাবি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাঁর কাছে হুমকি আসছে। এমনকি তাঁকে অন্যত্র বদলি করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিনের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৈকত বলেন, ‘আমি মানুষের জন্য সব সময় কাজ করে চলেছি। সিঁড়ি বেয়ে উঠেছি। বিতর্ক ছিল, বিতর্ক আছে, বিতর্ক থাকবে। তার মধ্যে দিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের উন্নয়ন করে যেতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আম্রুত প্রকল্প চালু করবই। কোনও শক্তি আটকাতে পারবে না। পার্কিং জোন আমরা করব। করলার নাব্যতা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা পুরসভার নেই, কিন্তু আমরা করলার পাড়ের সৌন্দর্যায়নের কাজ করব।’

বিতর্কিত ভিডিও প্রসঙ্গে সৈকত এদিন ফের বলেন, ‘ওটা বিকৃত করা ভিডিও। ভারতবর্ষের কোনও আদালতে ওটা প্রমাণ করতে পারবে না। আমি আইনি পথে যাচ্ছি।’ এদিন ভাইস চেয়ারম্যান পদে শপথ নেন সন্দীপ মাহাতো। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
পুর আইন মেনেই এদিন সদর মহকুমা শাসক তমোজিৎ চক্রবর্তী চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করান। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ, রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন, আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি তপন দে সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ব। এসেছিলেন সদ্যপ্রাক্তন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পালও। পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সৈকতের শপথগ্রহণ নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। এদিন তিনিও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। তপন বলেন, ‘এদিনের অনুষ্ঠানে এসেছি দলের সিদ্ধান্তে। যেহেতু আমিও দলটা করি তাই দলের নির্দেশ মেনেছি।’
এদিন স্কুলের সামনে সাংবাদিকরা প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ঘটনার পর তিনি কোনওভাবে হুমকির শিকার হচ্ছেন কি না? উত্তরে শিক্ষিকা জানান, ‘কেউ বা কারা আমাকে বলেছেন, অভয়া আন্দোলনে আপনি ছিলেন। সেখানে কিছুই হয়নি। এখান থেকেও আপনি সরে যান।’ এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি স্কুল ছাড়বেন কি না? উত্তরে সুতপা বলেন, ‘আমি কেন স্কুল ছাড়ব? আমাকে স্কুল থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার একটা চক্রান্ত চলছে তা আমি বুঝতে পারছি। আমি ওঁর (সৈকত চট্টোপাধ্যায়) নির্দেশে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য হয়েছি। আমি ভয় পেয়ে এই কাজ করিনি।’
চেয়ারম্যান পদে সৈকতের শপথগ্রহণ প্রসঙ্গে সুতপা বলেছেন, ‘শহরের নাগরিক হিসেবে আমি চাইব যাতে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সুষ্ঠুভাবে শহর পরিচালনা করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার লড়াই চলবে।
