উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখতে পারস্য উপসাগরের দিকে এক বিশাল নৌ-বহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠাচ্ছে আমেরিকা। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠক সেরে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশাল নৌ-বহরের যাত্রা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি শক্তিশালী স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। তিনি একে “বিশাল নৌ-বহর” (Huge Fleet) হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমরা ইরানের ওপর কড়া নজর রাখছি। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতেই আমাদের এই বিশাল বাহিনী সেখানে যাচ্ছে। তবে আমি চাই না কোনো যুদ্ধ হোক।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদ ও দমন-পীড়ন
গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর কঠোর হুঁশিয়ারির কারণেই তেহরান প্রায় ৮৩৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইরান সরকার প্রথমবার স্বীকার করেছে যে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা
সামরিক প্রস্তুতি জারি রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। গত জুন মাসে ইজরায়েলের সাথে মিলে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির ওপর ১২ দিনের যুদ্ধের পর এটিই বড় কোনো সামরিক চাপ তৈরির কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই “আর্মাডা” পাঠানোর সিদ্ধান্ত আদতে যুদ্ধের পূর্বাভাস নাকি নিছকই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আন্তর্জাতিক মহল।
