জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) এক বেকারির ম্যানেজারকে নৃশংসভাবে খুন করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার চাঞ্চল্যকর পর্দাফাঁস করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই বেকারিরই এক কর্মীকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই পাকড়াও করা হয়েছে। ধৃত অভিযুক্তের নাম নূর শেখ। অর্থের লোভ এবং হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই এই হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
শুক্রবার সকালে বেকারীতেই (Bakery) নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হয় ম্যানেজার হাফিজুল রহমান (৫৫)-এর রক্তাক্ত দেহ। দেখা যায়, বেকারির ড্রয়ার ও ম্যানেজারের লকার থেকে নগদ টাকা হাওয়া। ঘটনার ধরন দেখে শুরুতেই পুলিশের অনুমান ছিল, এর নেপথ্যে পরিচিত বা ভেতরের কারও হাত রয়েছে।
এরপরই বেকারির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয় এবং কর্মীদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, বেকারির কর্মী নূর শেখ কাজে অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার সালারের বাসিন্দা ওই কর্মীর বৃহস্পতিবার রাতেই বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। সেইমতো সে বেকারি থেকেও বেরিয়েছিল। কিন্তু জলপাইগুড়ি পুলিশ মুর্শিদাবাদ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, সে সময়মতো বাড়িতে পৌঁছায়নি। এর পরেই জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কান্দি থানার পুলিশ ওই যুবককে আটক করে। জলপাইগুড়ি থেকে পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে পৌঁছে গিয়েছে এবং ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে শনিবার জলপাইগুড়িতে নিয়ে আসা হবে।
পুলিশের অনুমান, বেকারি থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও ওই যুবক নির্দিষ্ট ট্রেনে ওঠেনি। সকলের অগোচরে সে ফের বেকারিতে ফিরে আসে এবং আশেপাশেই আত্মগোপন করে থাকে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে প্রথমে ড্রয়ার থেকে টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। কিন্তু যতটা টাকা সে ভেবেছিল, ততটা না পেয়ে সে ম্যানেজারের লকার ভাঙতে যায়। ঠিক তখনই ম্যানেজার হাফিজুল রহমান জেগে উঠে তাকে দেখে ফেলেন।
ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত ভারী কিছু দিয়ে ম্যানেজারের মাথায় মারে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন (Homicide) করে। এরপর ঘুলঘুলির নেট ভেঙে সে চম্পট দেয়। সিসিটিভি ফুটেজেও আংশিক গতিবিধি ধরা পড়ে, যদিও তার মুখ ঢাকা ছিল।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার শ্রীনিবাস এম.পি. জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার কিনারা করা হয়েছে। আততায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং হেপাজতে নিতে পুলিশ দল কাজ করছে। অন্যদিকে, রাত্রে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ওপরের তলায় থাকা মালিক বা কর্মীরা কোনও আওয়াজ পাননি বলে জানিয়েছেন বেকারির মালিকের আত্মীয় শেখ আলমগীর আলি। এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত খুন বলে দাবি করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

