Jalpaiguri | জলপাইগুড়িতে জলভূমি ভরাট করে বেসরকারি স্কুল তৈরি!

শিক্ষা
Spread the love


জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি(Jalpaiguri) শহর সংলগ্ন শোভাবাড়ি এলাকায় একটি বিশাল জলাভূমি ভরাট(Wetland filling) করে বেসরকারি স্কুল তৈরির কাজ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনার জেরে পরিবেশ রক্ষা ও বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখার দাবিতে সরব হয়েছে একাধিক সংগঠন। অন্যদিকে, এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের স্বার্থে এই নির্মাণের পক্ষেই জোরালো প্রশ্ন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জলপাইগুড়ি শহর ছাড়িয়ে শোভাবাড়ি(Shobhabari) এলাকার ওই বিশাল জলাভূমিটি স্থানীয়ভাবে ‘ভাটাখানা’ নামে পরিচিত। এর একাংশ খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এবং অন্য অংশটি মণ্ডলঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত। বহু বছর আগে ওই এলাকার একাংশে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ইটভাটা ছিল, সেই থেকেই জায়গাটির নাম ভাটাখানা। একসময় ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে জায়গাটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং ধীরে ধীরে তা স্থানীয় পাখি ও পরিযায়ী পাখিদের বিচরণের নিরাপদ ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সম্প্রতি সেখানে বালি ও বজরি ফেলে নীচু অংশ ভরাট করার কাজ শুরু হয়। জানা গিয়েছে, জনৈক অরুণ কুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৩৫ বিঘা জমি কিনে সেখানে একটি বড় মাপের বেসরকারি স্কুল গড়ার পরিকল্পনা করেছেন। বর্তমানে সেই কাজেরই প্রাথমিক পর্ব চলছে। এই খবর চাউর হতেই পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। সোমবার ‘জলপাইগুড়ি বিজ্ঞান কেন্দ্র’(Jalpaiguri Science Centre) এবং ‘নাগরিক সংসদ’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং নির্মাণকাজের তীব্র আপত্তি জানান। বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদিকা রীতা রায়ের দাবি, এটি একটি দীর্ঘদিনের জলাভূমি। এখানে নির্মাণকাজ হলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর। সিকিম বা নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উদাহরণ টেনে অবিলম্বে এই কাজ বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
পরিবেশকর্মীদের এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ। তাঁদের বক্তব্য, সামান্য জল জমে থাকলেও এই জায়গাটি কোনও জলাভূমি নয়। তাঁদের পালটা যুক্তি, এখানে একটি ভালো স্কুল তৈরি হলে যেমন শিক্ষার প্রসার ঘটবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। দুই পক্ষের এই দাবি ও পালটা দাবির জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
অন্যদিকে, জমির মালিক পক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনও জলাভূমি নয়; এটি সম্পূর্ণ বাস্তু জমি এবং পুরনো ইটভাটার জায়গা। জমির সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে এবং যথাযথ অনুমতি নিয়েই এই প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক সংসদ এবং বিজ্ঞান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসন এবং মহকুমা প্রশাসনের নজরে আনবেন। প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *