জলপাইগুড়ি ব্যুরো: বর্ষা ঢুকতেই প্লাবনের ভ্রূকুটি। জলপাইগুড়ি জেলার নদীগুলোতে শুরু হয়েছে ভাঙনও। গত বছরের ৫ অক্টোবরের বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাসে জলঢাকা, ডায়না, গাঠিয়া, কুজি ডায়না, সুখানি, কূর্তি, মূর্তির মতো খরস্রোতা নদী ও অজস্র ঝোরার ভাঙা বাঁধ আজও অরক্ষিত অবস্থায় থেকে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। মঙ্গলবার রাতে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মালবাজারে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে নির্মীয়মাণ কালভার্টের পাশের ডাইভারশন উপচে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে লাগোয়া রাজা চা বাগান ও মালবাজার (Mal Bazar) শহরের বিভিন্ন ওয়াের্ড।
মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টা দেড়েকের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে মালবাজার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড। শহরের বিভিন্ন রাস্তা মেরামতির জন্য পিচ ঢালাই করার পর রাস্তার উচ্চতা বেড়েছে। তবে নর্দমার উচ্চতা বাড়েনি। সেজন্য বৃষ্টি হলেই নর্দমার জল ঢুকে পড়ছে বাড়িতে। রেলওয়ে ময়দানের সামনে আন্ডারপাসে জল জমে থাকে দীর্ঘ সময়। জাতীয় সড়কেও বহু জায়গায় জল জমে যায়। উত্তর কলোনির বহু পুরোনো বাড়িতে জল ঢুকে যায়।
বৃষ্টিতে শহরে সংলগ্ন নিউ মাল মোড়ের কাছে রাজা চা বাগানের ধোবিঝোরায় জলস্তর বেড়ে যায়। সেখানে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। ভারী বৃষ্টিতে হিউমপাইপের ডাইভারশনের ওপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝোরার জল রাজা চা বাগানের কেশর লাইন এবং ফ্যাক্টরি লাইনে ঢুকে যায়। কেশর লাইনের সুনীল ওরাওঁ, সুরেশ টোপ্পো, ফ্যাক্টরি লাইনের সুষমা তিরকিদের মতো আরও অনেকের বাড়িতে জল ঢুকে যায়। কাঁচা ঘরের বহু জায়গায় মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ফের বৃষ্টি হলে ভেঙে পড়তে পারে বাড়িগুলি। বুধবার ওই এলাকার বাসিন্দারা মালের বিডিওর কাছে গিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নালিশ করে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হবে। পরিস্থিতি দেখে রাতেই মাল ও ক্রান্তির ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা।
মেটেলি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নেওড়া নদী সংলগ্ন হরি মন্দিরপাড়া, মুন্সিধুরা, বাটাইগোল বস্তি, বগিলাধুরা, বেদে বস্তি, মাকড়াপাড়া সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় শুরু হয়েছে মূির্ত নদীর ভাঙন। মাটিয়ালি-বাতাবড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পর্যটনকেন্দ্র মূর্তি সহ দক্ষিণ ও উত্তর ধূপঝোরা সহ মূর্তি বনবস্তি এলাকায় মূর্তির ভাঙন বাড়ছে। ওই পঞ্চায়েতেরই বাতাবাড়ি, জাকরিকণা, বাংলাপাড়া এলাকায় কূর্তি নদীর ভাঙন দীর্ঘদিনের। তবে ব্লকে এখন সবচেয়ে বিপদের মুখে চুলসা চা বাগানের পোলো ক্লাব ময়দান লাগোয়া এলাকা। সেখানে দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পোলো ক্লাবের পুরো মাঠ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত বছরের ৫ অক্টোবরের বন্যায় সবথেকে ক্ষতির শিকার হয়েছিল নাগরাকাটা ব্লক। এখনও বিভিন্ন নদীর ভাঙা বাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় আছে। কিছু কাজ হয়েছে দায়সারা গোছের। বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজে জলঢাকার বাঁধ ভেঙে আছড়ে পড়া তীব্র স্রোতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বাঁধ পরে মেরামত করা হলেও তা ওই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। ভাঙন বাড়ছে গাঠিয়া, কুজি ডায়না ও সুখানি নদীতেও। ফলে গ্রাসমোড় চা বাগানের একাংশ, লুকসানের শ্মশানপাড়া, কালীখোলা বিস্ত, সুখানি বিস্তর মতো একাধিক এলাকা বিপদের মুখে। নাগরাকাটায় কূর্তি নদীর ভাঙন দেখে ভগতপুর চা বাগানের বাঁশবাড়ি লাইনের বাসিন্দারা প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন।
গত ৫ অক্টোবর জলঢাকা নদীর বন্যায় ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি, রামশাই ও চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের যে সব এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেখানে বাঁধের বেশ কিছু অংশে নতুন করে রেইনকাট দেখা দিয়েছে।
