Jalpaiguri | তিস্তায় জলবৃদ্ধির আশঙ্কা! ফসল বাঁচাতে আধপাকা ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকরা 

Jalpaiguri | তিস্তায় জলবৃদ্ধির আশঙ্কা! ফসল বাঁচাতে আধপাকা ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকরা 

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


লাটাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি হলেই বুক কাঁপে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। এবারও তিস্তা (Teesta) নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় প্রশাসন আগাম সতর্কবার্তা জারি করতে না করতেই চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ক্রান্তি ব্লকে। নদী সংলগ্ন নীচু এলাকাগুলিতে এখনও বড় কোনও প্লাবন বা জল ঢোকার ঘটনা ঘটেনি ঠিকই, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে আগেভাগেই মাঠের আধপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শয়ে-শয়ে কৃষক। অন্যদিকে, ডুয়ার্সের এই সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৯ মে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাল মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খান্ডাল। সেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।

পাহাড়ে ভারী বর্ষণের জেরে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ক্রান্তি (Kranti) ব্লকের চাঁপাডাঙ্গা ও চেংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাইকিং করে গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নদীতে কিছুটা জল বাড়লেও কোথাও জলমগ্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে আপাতত স্বস্তিতে রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয়রা। কিন্তু তিস্তার রূপ কখন বদলায়, সেই আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে চাষিদের। কারণ প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই চাঁপাডাঙ্গার মাস্টারপাড়া, সেনপাড়া, কলোনিপাড়া, বাসুসুবা এবং চেংমারির সাহেববাড়ি ও দোলাইগাঁওয়ে হুহু করে নদীর জল ঢুকে পড়ে।

এই সমস্ত নীচু এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ হয়। ফসল বাঁচাতে গত দু’দিন ধরে আধপাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলছেন বাসুসুবা এলাকার কৃষক রমেন রায়। তিনি বলেন, ‘কয়েক বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। পাহাড়ে বৃষ্টি হলে সেই জল যদি গ্রামে প্রবেশ করে, তাহলে এই ধান আর ঘরে তুলতে পারব না।’ তাই পুরোপুরি ধান পাকার আগেই তিনি আধপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। একই আশঙ্কার সুর চেংমারি এলাকার কৃষক রবিউল আলমের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পুরো পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছি না। এবারও মঙ্গলবার থেকে আধপাকা ধান কাটার কাজ শুরু করেছি।’

তবে আশ্বস্ত করছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন রায়। জানিয়েছেন, পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে জল বাড়ার জন্য গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সামান্য পরিমাণ জল বেড়েছে গ্রামে তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে, সিকিমে লাগাতার বৃষ্টিপাতের জেরে তিস্তা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন তিস্তা নদীর বাঁধের পাশে থাকা মানুষের মধ্যে ভয় বাড়ছে। তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিবেকানন্দপল্লির ১৬৮ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্যা জয়া সরকার বিশ্বাস, মঙ্গলবার রাতে তিস্তা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনার খবর পান। ওই রাতেই তিনি নিজে তিস্তা নদীর পাড়ে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *