উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যু (Anik Dutta Loss of life) ঘিরে টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দুর্ঘটনাস্থল অর্থাৎ গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কে অনীকবাবুর স্ত্রীর আবাসনে পৌঁছায় ফরেন্সিক টিম এবং বিশেষ তদন্তকারী দল। বহুতলের ছাদে গিয়ে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করে। ঠিক কীভাবে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখতে ওপর থেকে ভারী বস্তু ফেলে পরীক্ষা চালান তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাদ থেকে নিচে পড়ার সময় আবাসন সংলগ্ন একটি গাছের ডালে বাধা পেয়েছিলেন পরিচালক, যারপর সেই ডালটি ভেঙেই তিনি নিচে পড়ে যান।
এদিকে প্রয়াত পরিচালকের শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদেশ থেকে ইতিমধ্যেই কলকাতায় ফিরে এসেছেন তাঁর কন্যা ঐশী দত্ত (রাই)। অনীক দত্তের স্ত্রী সন্ধি দত্ত এবং কন্যা ঐশী যৌথভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লিখিত বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ মে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিচালকের মরদেহ টালিগঞ্জের নিউ থিয়েটার্স-১ (NT1) স্টুডিয়োতে শায়িত রাখা হবে। সেখানেই ওঁর পরিবারের সদস্য, প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে এই শেষযাত্রায় শামিল হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা তো বটেই, স্পষ্টবক্তা মানুষ হিসেবেও অনীক দত্তকে শ্রদ্ধা করেন অনেকে। বহু মানুষ শেষবারের মতো প্রয়াত পরিচালককে একঝলক দেখতে চান। সেই কারণে অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছিলেন, পরিচালকের মরদেহ কিছুক্ষণের জন্য হলেও নন্দন চত্বরে রাখতে চান এবং সরকারি তরফে সেই ব্যবস্থাও করা হবে। তবে এই ক্ষেত্রে অনীক দত্তের পরিবারের ইচ্ছাকেই শেষ কথা বলে মনে করা হচ্ছে, যার ফলে নন্দনে মরদেহ রাখার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
শোকের আবহের মাঝেই অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যু ঘিরে একাধিক নতুন প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ আবাসনের ছাদ থেকে একটি খামবন্দি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যা একটি ম্যাগাজিনের ভেতরে রাখা ছিল। চিঠিটি অনীকবাবু তাঁর কন্যা ঐশীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন। তবে রহস্যময় এই চিঠিতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি বা দায়ী করেননি বলেই খবর তদন্তকারী সূত্রে। পুলিশ ঘটনার সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে।
