আলিপুরদুয়ার: কর্মীসংকটের (Employees disaster) জেরে ধুঁকছে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। জেলার ১২টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের বেশিরভাগে নেই ক্লার্ক ও গ্রুপ-ডি কর্মী। ৬টি ব্লকের মাত্র দুটিতে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক রয়েছেন। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদেও (ডিপিএসসি) কর্মীর আকাল। সেখানে সাতটি শূন্যপদ থাকলেও নিয়োগ হচ্ছে না। কর্মীর অভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শন থেকে শুরু করে মিড-ডে মিলের হিসেবনিকেশ সহ একাধিক কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের অনেকসময় ওই কাজে ব্যবহার করায় পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটছে। কর্মীসংকটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন খোদ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরাও। এখন বিজেপি সরকার শূন্যপদে নিয়োগ করবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার শিক্ষা মহল।
আলিপুরদুয়ার জেলায় ৮৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা সহ পঠনপাঠনের বিষয়গুলি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরা নজরে রাখেন। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে তিনটি অবর বিদ্যালয় অফিসের মধ্যে দুটি অফিসে গ্রুপ-ডি কর্মী নেই। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে দুটি অবর বিদ্যালয় অফিসে দুজনকে গ্রুপ-সি নিযুক্ত করা হলেও আলিপুরদুয়ার ওয়েস্ট সার্কেল, ফালাকাটা সার্কেল, মাদারিহাট সার্কেল, ফালাকাটা নর্থ সার্কেলে কোনও গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী নেই। ছয়টি ব্লকে ছয়জন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক থাকার কথা থাকলেও চারটিতে তা নেই। কেবল ফালাকাটা ও কুমারগ্রামে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক রয়েছেন।
অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসগুলিতে ক্লার্ক ও গ্রুপ-ডি কর্মীর সমস্যা দূর করতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছে। আবার অনেক সময় এক অফিসের কর্মীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হয়। আলিপুরদুয়ার পিএসসিতে চৌকিদার, ইঞ্জিনিয়ার, ক্লার্ক, গ্রুপ-ডি কর্মী, ল’ অফিসারের পদে কেউ নেই। স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত সমস্যা দেখতে হলে অন্য দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগিতা নিতে হয়। এই বিষয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্যের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক অসীম দাস বলেন, ‘অবর বিদ্যালয়ে কর্মীসংকট রয়েছে। এছাড়াও ডিপিএসসি-তে কর্মী অপ্রতুল রয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাজে লাগানো হচ্ছে। এতে পঠনপাঠনের ওপর প্রভাব পড়ছে।’
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি কৌশিক সরকারের কথায়, ‘এসআই অফিস ও ডিপিএসসি-তে কর্মীসংকট রয়েছে। তবে নতুন সরকার শূন্যপদে নিয়োগ করবে বলেই আশা করছি।’ নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় সমস্ত এসআই অফিসে গ্রুপ-ডি ও গ্রুপ-সি কর্মী নিয়োগের দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে বেকারদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।’
