উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত! ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), তাঁদের ‘অসহযোগিতা’র কড়া জবাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিনের জোট নেটো (NATO)-র অস্বস্তি বাড়িয়ে জার্মানি থেকে একধাক্কায় ৫০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের (US Troop Withdrawal) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার (Iran-US) সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইউরোপের তথাকথিত বন্ধু দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরব ছিলেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের দাবি, আমেরিকা যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিপাকে, তখন জার্মানি, ইটালি বা স্পেনের মতো দেশগুলো শুধু হাত গুটিয়েই থাকেনি, বরং মার্কিন নীতির সমালোচনাও করেছে। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ট্রাম্প চেয়েছিলেন নেটো দেশগুলো তাঁদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে পাঠিয়ে ইরানকে চাপে রাখুক। কিন্তু অধিকাংশ দেশই সেই পথে হাঁটতে রাজি হয়নি।
ইউরোপের মধ্যে জার্মানিতেই সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৫ হাজার) মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। কিন্তু জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতি বিষিয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, সমঝোতা নিয়ে ইরান আমেরিকার মতো শক্তিকে ‘অপমান’ করে চলেছে। চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত এবং অর্থহীন’ বলে দেগে দিয়েছে পেন্টাগন। ট্রাম্পের সাফ কথা, মার্কিন সেনার সুরক্ষা নেবে অথচ প্রয়োজনের সময় সাহায্য করবে না— এমন দ্বিচারিতা আর বরদাস্ত করা হবে না।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ৫০০০ সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হবে। যদিও ইউরোপের নিরাপত্তা এতে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে আটলান্টিক— সর্বত্রই এখন ট্রাম্পের এই বড় পদক্ষেপের প্রভাব পড়ার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল। এটি কি নিছকই সেনা প্রত্যাহার, নাকি বড় কোনো যুদ্ধের আগে রণকৌশল বদল? উত্তর সময়ের গর্ভে।
