জলপাইগুড়ি: ক্লাসরুমের মধ্যেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা (Suicide Try) এসএফআই ছাত্রনেতার। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) আনন্দ চন্দ্র কলেজে (AC Faculty)। এদিকে, এই ঘটনার পর এবিভিপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ওই এসএফআই ছাত্রনেতা।
জানা গিয়েছে, এদিন কলেজে ইন্টারনাল পরীক্ষা চলছিল। আর এর মাঝেই প্রথম সিমেস্টারের পড়ুয়া ওই এসএফআই ছাত্রনেতা অর্ণব সরকার আচমকাই ব্যাগ থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে শরীরে ঢালতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, লাইটারও বের করেন। কিন্তু সেই সময় ক্লাসে থাকা ইতিহাসের অধ্যাপক তাঁকে বুঝিয়ে লাইটারটি ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন কলেজের অধ্যক্ষ। এরপর ওই পড়ুয়াকে উদ্ধার করে অফিস রুমে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, ওই এসএফআই ছাত্রনেতার অভিযোগ, এবিভিপিতে যোগদানের জন্য তাঁকে লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তাঁর দাবি, রাজি না হওয়ায় গত দু’মাসে তাঁকে একাধিকবার মারধরও করা হয়েছে। ভয়ে ওই পড়ুয়া এতদিন কলেজে আসতে পারেননি। এদিন ইন্টারনাল পরীক্ষা থাকায় কলেজে উপস্থিত হলে ক্লাসের ভেতরেই তাঁকে ফের মারধর করা হয়, যার ফলস্বরূপ তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন বলে জানান। এর আগে তিনি অ্যান্টি র্যাগিং কমিটিতেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
যদিও এবিভিপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। এবিভিপির জলপাইগুড়ি ব্লক কনভেনার বিনায়ক দাস পালটা প্রশ্ন তোলেন যে, একজন পড়ুয়া কীভাবে কলেজ চত্বরে কেরোসিনের বোতল নিয়ে প্রবেশ করল। তাঁর দাবি, কম বয়সে নেতার হওয়ার জন্য প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই পড়ুয়া। অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস জানান যে, পুরো বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে কোনও পড়ুয়াকে মারধর বা র্যাগিং সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।

