Banarhat | বাগানে বন্ধ স্কুলবাস, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে টাকা ধার অভিভাবকদের

Banarhat | বাগানে বন্ধ স্কুলবাস, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে টাকা ধার অভিভাবকদের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


গোপাল মণ্ডল, বানারহাট: বানারহাটের (Banarhat) বন্ধ আমবাড়ি চা বাগানে তেলের টাকার অভাবে স্কুলবাস বন্ধ করা হল। বাস মালিক বাস বন্ধ করায় শুক্রবার থেকে পড়ুয়ারা স্কুল যেতে পারছে না। ফলে চিন্তায় অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, সামনের মাসে স্কুলগুলিতে পরীক্ষা রয়েছে। এই সময় স্কুলবাসের অভাবে পড়ুয়ারা যদি স্কুলে যেতে না পারে, তাহলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে। বাস বন্ধের দ্বিতীয় দিন শনিবার বাগান থেকে টোটোভাড়া দিয়ে প্রায় ২০-৩০ জন পড়ুয়া স্কুলমুখী হয়েছিল। তবে সোমবারে সেই সংখ্যাটা তলানিতে ঠেকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ বাগান থেকে টোটো করে স্কুলে যেতে একেকজন পড়ুয়াকে ৬০ টাকা করে খরচ করতে হবে। বন্ধ বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলির পক্ষে রোজ সেই টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে মত বাগানের সমস্ত শ্রমিক নেতৃত্বের। কয়েকদিন আগেই বাগানের স্কুলবাস চালু রাখতে জেলা শাসক,  বিডিও সহ স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত আকারে জানিয়েছিলেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। কিন্তু প্রশাসন এনিয়ে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি।

বন্ধ আমবাড়ি চা বাগান থেকে বানারহাটের বিভিন্ন স্কুলে প্রায় ১৭০ জন পড়ুয়া রোজ যাতায়াত করে। বর্তমানে ১২ দিন ধরে বাগান বন্ধ। ফলে বাগান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্কুলবাসটিও আর যাতায়াত করছে না। বানারহাট গার্লস হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া বিন্দিয়া বড়াইক বলে, ‘শনিবার টোটোতে স্কুলে গিয়েছি। তবে রোজ তো এত টাকা খরচ করা সম্ভব না। কাজ না হলে কোথায় টাকা পাব।’ একই মত দশম শ্রেণির পড়ুয়া মাহি ওরাওঁয়ের। তাঁর কথায়, ‘আমাদের সামনে মাধ্যমিক। টাকার অভাবে টিউশন পড়তে পারি না। স্কুলের পড়াই ভরসা।’ অন্যদিকে, দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া গায়ত্রী চিকবড়াইকের মা এদিন ধার করে মেয়ের স্কুলে যাওয়ার টাকার ব্যবস্থা করেন।

এনিয়ে চা বাগানের শ্রমিক নেতা তথা বাগানের সাব-স্টাফ রাজু বিশ্বকর্মা জানান, বাগান ১২ দিন আগে বন্ধ হলেও শ্রমিকদের ২২ দিন ধরে কাজ নেই। শ্রমিকদের হাতে টাকা নেই। অন্যদিকে, স্কুলবাসের মালিক বানারহাটের বাসিন্দা নাড়ুগোপাল ভদ্রের বক্তব্য, ‘২০২০ সাল থেকে আমি বাগানে বাস চালাচ্ছি। বাগান বন্ধের দিন থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে গাড়িটি বন্ধ রাখতে বলেছে। আমি তবু পড়ুয়াদের জন্য গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু পরে চিঠিতে বাস বন্ধ করতে বলা হয়। পাশাপাশি বাসটি বাগানের ক্যাম্পাসে রাখলে দিন প্রতি ২৫০ টাকা পার্কিং ফি দিতে হবে বলেও জানানো হয়।’ এনিয়ে আমবাড়ি চা বাগানের তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি শংকর হাজাম জানান, বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজেপি সমর্থিত বিটিডব্লিউইউ চা বাগান ইউনিটের সম্পাদক হীরেন বিশ্বকর্মা জানান, নাগরাকাটা বিধায়ক পুনা ভেংরা বিডিওর সঙ্গে দেখা করে বাসটি চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা বলবেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *