সমীর দাস, জয়গাঁ: বিপুল পরিমাণে প্রসাধনী সামগ্রী বাজেয়াপ্তের ঘটনায় মিলল থাইল্যান্ডের পাশাপাশি পাকিস্তানি-যোগও। শুক্রবার রাতে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের হাসিমারার কাছে ১০ নম্বর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিশ। তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডে তৈরি প্রসাধনী সামগ্রী ভুটান থেকে চোরাপথে এনে জয়গাঁর গোপন গুদামে জমা করে সেখান থেকে জয়গাঁর (Jaigaon) মার্কেট ছাড়াও শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে পাচার চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ধৃত গাড়িচালক ওম ঘোষ ও সহকারী চালক লক্ষ্মণ গোয়ালাকে শনিবার আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে তোলা হলে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা পুলিশকে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে বিদেশি পণ্যের চোরাকারবারে বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ শহরে। মূলত ওই শহর থেকেই অবৈধ বিদেশি প্রসাধনী সামগ্রী শিলিগুড়ির মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের বাড়ি জয়গাঁর ছোট মেচিয়াবস্তি এলাকায়। জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, গাড়ির মালিক তাদের দলসিংপাড়া এলাকার মাঝরাস্তায় পণ্যবোঝাই গাড়িটি তুলে দিয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পুলিশের ধারণা, ধরা পড়লে গাড়িচালকরা যাতে গোপন গুদামের খোঁজ না দিতে পারে, সেজন্য সে এই ফন্দি আঁটে। তদন্তের স্বার্থে গাড়ির মালিকের নাম জানায়নি পুলিশ। গাড়ির মালিকই চোরাই সামগ্রীর অন্যতম পান্ডা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গাড়িটি থেকে ক্রিম, সাবান সহ প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার প্রসাধনী সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোট ৪২টি কার্টনে ভরা ছিল সেগুলো।
অন্যদিকে, ভুটান সীমান্ত থেকে পাকিস্তানি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা দপ্তরও নজর রাখছে। সূত্রের খবর, জয়গাঁ শহরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রসাধনী সামগ্রী অবাধে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীদের একাংশ। থাইল্যান্ডের সাবান জয়গাঁর বহু দোকানে বিক্রি হচ্ছে। তবে এতদিন কী করছিল প্রশাসন? উঠছে প্রশ্ন। আরও খবর, ভুটানে যেসব ছোট ও বড় গাড়ি পণ্য নিয়ে যায়, সেই গাড়িগুলো ফেরার সময় দু-তিন প্যাকেট করে অবৈধ প্রসাধনী নিয়ে জয়গাঁর নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেয়। যেহেতু সীমান্তের চেকপোস্টে এসএসবি-শুল্ক দপ্তরের কড়া নজরদারি রয়েছে, সেজন্য অল্প পরিমাণে পণ্য এদেশে আনা হয়। পরে সুযোগ বুঝে ওই পণ্য জয়গাঁর বিভিন্ন হোলসেল, রিটেল দোকান ছাড়াও শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের যে ক্রিম বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার প্রতি প্যাকেটের মূল্য ৩৭৯ টাকা ও থাইল্যান্ডের সাবানের প্রতিটির মূল্য ২০২ টাকা। জয়গাঁর মার্কেটে যেভাবে অবৈধ বিদেশি প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে, তাতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
পুলিশ ধৃতদের জেরা করে মূল চক্রটিকে পাকড়াও করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, ‘ধৃতদের হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।’

