Siliguri | বাইপাস না কি ‘পাড়ার রাস্তা’? ইস্টার্ন বাইপাসে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

Siliguri | বাইপাস না কি ‘পাড়ার রাস্তা’? ইস্টার্ন বাইপাসে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শিক্ষা
Spread the love


শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: সারাদিনে যাতায়াত করে ৪০ হাজার গাড়ি। সেই গাড়িগুলোর মধ্যে ১০ হাজারই হল পণ্যবাহী বড় ট্রাক-ডাম্পার-ট্রেলার। তবু এলাকাবাসীর একটা বড় অংশের কাছে এখনও ইস্টার্ন বাইপাস (Jap Bypass) হল ‘পাড়ার রাস্তা’। হাতিয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে ফকদইবাড়ি বা শান্তিনগর, স্থানীয় বাসিন্দাদের যে কোনও কাজেই আসতে হয় ইস্টার্ন বাইপাসে। তবে ‘পাড়ার রাস্তা’ হওয়ায় তাই এখনও চরম ব্যস্ত ওই রাস্তায় হেলমেট পরে যেতে এখনও প্রবল অনীহা স্থানীয় বাইক-স্কুটারচালকদের।

হেলমেট না পরে বেরোনো একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার মুখে এদিন শোনা গেল, ‘একটু কাজের জন্য বাইরে বেরিয়েছি।’ সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এক তরুণের জোরালো আপত্তি হেলমেট পরতে, ‘দুই মিনিটের জন্য দুধ নিতে এসে হেলমেট পরতে হবে নাকি?’ সোমবার সন্ধ্যাতেও আশিঘর মোড়ে ড্রিংক অ্যান্ড ড্রাইভ, হেলমেট না পরে বাইক, স্কুটার চালানোর বিরুদ্ধে দেড় ঘণ্টার অভিযানে ১৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে ফুটপাথ দখল করে বসা ব্যবসায়ীদেরও।

সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবের এই রাস্তায় ট্রাফিকের খামতির বিষয়টাও তো স্পষ্ট। আশিঘর থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত ইস্টার্ন বাইপাসের দু’পাশজুড়ে সবসময়ই ভিড় থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়নি প্রয়োজনীয় ট্রাফিক কাঠামোর।

সোমবার ইস্টার্ন বাইপাসের মূলত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখার পাশাপশি ট্রাফিককর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বেশকিছু বিষয় সামনে এল। গত কয়েকমাসে বারেবারেই দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী মোড়, ঢাকেশ্বরী কালী মন্দির এলাকা, বাণেশ্বর মোড় এলাকা। কেন রাস্তার এই অংশগুলো যানজটপ্রবণ? ট্রাফিককর্মীদের বিশ্লেষণ, ইস্টার্ন বাইপাসের এই অংশগুলো চাপা। তাই একটি লেন দিয়ে যখন বড় ভারী গাড়ি যায়, তখন সেটিকে ওভারটেক করার মতো জায়গা থাকে না। কিন্তু তারপরেও জোর করে ওভারটেক করতে গিয়েই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাস্তা চাপা হওয়াকেই কারণ হিসাবে দেখলে হবে না। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি কোথায়?

এক্ষেত্রে একটা তথ্যের উল্লেখ করা যেতে পারে। আশিঘর সাব-আউটপোস্টর আওতায় ইস্টার্ন বাইপাসের সাতটি জায়গায় পোস্ট তৈরির কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবে ট্রাফিককর্মীর অভাবে পঁাচটি জায়গা ট্রাফিক পোস্ট করা গিয়েছে। পোস্ট করা যায়নি দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকেশ্বরী কালী মন্দির ও কানকাটা মোড়ে। জানা গেল, আশিঘর সাব-আউটপোস্টের বর্তমানে কর্মী বলতে রয়েছেন ছয়জন অফিসার, সাতজন কনস্টেবল ও পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে ১২ জন সিভিক ভলান্টিয়ার। এই ফোর্স দিয়ে সাব-আউটপোস্টের আওতায় থাকা ডাম্পিং গ্রাউন্ড মোড় থেকে ঢাকেশ্বরী কালী মন্দির পর্যন্ত ইস্টার্ন বাইপাসের অংশ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

আসলে, দুর্ঘটনা রোধে এলাকাবাসীর মধ্যে যেমন ‘পাড়ার রাস্তা’-র চিন্তাভাবনা দূর করতে হবে। রাস্তায় ভিড়ে ঠাসা অংশগুলো, বিশেষ করে জলেশ্বরী মোড় থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড মোড় পর্যন্ত অংশে ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থাও আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, বাইপাস হলেও এই অংশে দোকানপাট এতটাই বেড়ে গিয়েছে, গাড়ির গতি বাড়লেই বিপদের আশঙ্কা থাকছে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন কড়া নজরদারি। কারণ, বাইপাসের ওই অংশে দোকানপাট বাড়লেও পার্কিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। আশপাশে পার্কিং করার মতো জায়গা নেই। তাই সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ট্রাফিকের নজরদারি শক্ত হলেই গাড়ির গতির কমবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনমতো ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার বিষয়টাও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে। তাতেই দুর্ঘটনা থেকে নিস্তার পাওয়া যেতে পারে। ডিসিপি (ট্রাফিক) কাজি সামসুদ্দিন আহমেদের বক্তব্য, ‘আমাদের সবমিলিয়ে ট্রাফিককর্মীর সংখ্যা ৭৫০। গোটা মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনারেট এলাকা এই ফোর্স দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষেরও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *