উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: টানা চারদিনের ভয়াবহ হামলা ও পালটা হামলার পর অবশেষে বন্দুক নামাতে রাজি হলো ইরান ও আমেরিকা (Iran-USA ceasefire)। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার আবহে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আন্তর্জাতিক মহল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আপাতত বাধাহীন রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই সংকট নিরসনে মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসতে চলেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আক্রমণের শিকার হওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আমেরিকা সরাসরি ইরানের দিকে আঙুল তুললেও তেহরান তা অস্বীকার করে উলটো মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ তোলে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনী ইরানের বেশ কিছু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করে। পালটা জবাব হিসেবে ইরান কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই চার দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কঠোর হুঙ্কার এবং ইরানের পালটা বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘স্বাক্ষরিত সমঝোতা বা মউ (MoU) অনুযায়ী প্রযুক্তিগত স্তরে আলোচনা চলছে। আপাতত উভয় পক্ষই সামরিক সংঘাত থেকে সরে আসতে রাজি হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকবে।’’
উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়ায় কাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মঙ্গলবার হতে যাওয়া বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সংঘর্ষবিরতি চুক্তির শর্তগুলো কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
তবে পশ্চিম এশিয়ার এই ভঙ্গুর শান্তি বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি স্থাপনের অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে ইজরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ রাখা। গত শুক্রবার আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি প্রাথমিক সংঘর্ষবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লা বাহিনীকে লেবানন থেকে সরিয়ে দেশের সেনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির পর থেকেই দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার ঘাঁটিতে ইজরায়েলি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাসীর নজর এখন আগামীকালের বৈঠকের ফলাফলের দিকে—শান্তি কি স্থায়ী হবে, নাকি ফের বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ?।

