IPL 2026, RCB vs GT: রাজার মাথায় রাজার মুকুট! ‘কিং’ কোহলির ব্যাটে ফের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু, পাত্তাই পেল না ‘প্রিন্স’ গিলের গুজরাট

IPL 2026, RCB vs GT: রাজার মাথায় রাজার মুকুট! ‘কিং’ কোহলির ব্যাটে ফের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু, পাত্তাই পেল না ‘প্রিন্স’ গিলের গুজরাট

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


গুজরাট টাইটান্স: ১৫৫/৮ (ওয়াশিংটন সুন্দর ৫০*, রশিখ সালাম ২৭/৩, ভুবনেশ্বর ২৯/২)
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১৬১/৫ (কোহলি ৭৫*, ভেঙ্কটেশ ৩২, রশিদ ২৫/২)
৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি

এই বিষয়ে আরও খবর

ফের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দু’বার খেতাব জিতল আরসিবি। ম্যাচের নায়ক? সেটা তো একজনই হতে পারেন। সেই বিরাট যোদ্ধা। যিনি আজও দল বিপদে পড়লে উদ্ধারকর্তা করতে এগিয়ে আসেন। অধিনায়ক না হয়েও দলের হৃদপিণ্ড তিনিই। আজও ‘কিং’ তিনিই। আজও ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। সেই বিরাট কোহলির ৭৫ রানে ভর করে ফের চ্যাম্পিয়ন আরসিবি। শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার, রশিখ সালামরা আঁটসাঁট বোলিং করে শুভমান গিলের গুজরাটের উপর ফাঁস লাগিয়েছিলেন। আর শেষটা করলেন কোহলি। তাও ছক্কা হাঁকিয়ে। ৪২ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল গতবার। আর দু’বছরে টানা দু’টো ট্রফি রজত পাতিদারদের দলে।

ফাইনাল প্রথমে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামীতে হওয়ার কথা থাকলেও তা চলে আসে আহমেদাবাদে। কিন্তু কোহলি যেখানে নামবেন, সেটাই তাঁর ঘরের মাঠ। এদিন আহমেদাবাদ লাল-সোনালিতে ভরপুর। টসে জিতে প্রথম বল করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। বছর কয়েক আগেও তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের র‍্যাডারে ছিলেন না। আর আজ যদি কোহলি ‘কিং’ হন, তাহলে পাতিদার ‘কিংমেকার’। তাঁর হাত ধরেই টানা দু’বার খেতাব। বেঙ্গালুরুর পেস বোলিংয়ে ভুবনেশ্বর কুমার, জস হ্যাজেলউডরা আছেন। কিন্তু এই দলটাকে একজোট করার কৃতিত্ব পাতিদারই। সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে রশিখ সালামের মতো তরুণ পেসারদের ব্যবহার করেন। যিনি এদিন ৩টি উইকেট নিয়ে যান।

টপঅর্ডারে শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনের উপরই বেশি নির্ভরশীল গুজরাট। দু’জন ব্যর্থ হতেই গুজরাটের রানের গতি থেমে যায়। প্রায়ই একই রকম ভাবে আউট হলেন দু’জন। সুদর্শনকে (১২) ফেরালেন ভুবি। আর গিল (১০) আউট হলেন হ্যাজেলউডের বলে। সেই যে রানের গতি পড়ল, আর ওঠেনি। একটা সময় টানা ৪০ বলে কোনও বাউন্ডারি আসেনি। অনভিজ্ঞ নিশান্ত সাঁধু (২০) বড় রান পাননি। অভিজ্ঞ জস বাটলার (১৯) ভালো সময় অনেকদিন আগেই পেরিয়ে এসেছেন। একমাত্র লড়াই করেন ওয়াশিংটন সুন্দর (৫০)। দু’টি করে উইকেট হ্যাজেলউড ও ভুবির। পার্পল ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে ভুবনেশ্বর। ৩টি উইকেট রশিখ সালামের। গতির হেরফের করে দারুণ সাফল্য পান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে গুজরাট তোলে ১৫৫ রান।

এটা তো আরসিবি’র জন্য জলভাত! কোহলির প্রায় একার খাদ্য। প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। বাকি কাজটা ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও বিরাট কোহলির ওপেনিং জুটিতে মিটে যায়। ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হন ভেঙ্কটেশ। মরশুমের মাঝপথে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে দলে জায়গা পান। ফাইনালেও ইমপ্যাক্ট রেখে গেলেন। অন্যদিকে কোহলিও এদিন তেড়েফুঁড়ে উঠেছিলেন। মহম্মদ সিরাজ বা পার্পল ক্যাপ জয়ী কাগিসো রাবাডা শুরুতে দাঁতই ফোটাতে পারেননি। পাওয়ারপ্লেতে উঠে যায় ৮৬ রান।

কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছতে কাঁটা কি ছিল না আরসিবি’র জন্য? নবম ওভারে সেই কাঁটাটা ফোটান গুজরাট স্পিনার রশিদ খান। এর আগে ভেঙ্কটেশ ও পাড়িক্কলের (১) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েনি আরসিবি। কিন্তু নবম ওভারে রশিদ ফেরালেন পাতিদার ও ক্রুণালকে। গুজরাটের জন্য যেন সামান্য আলোর রেখা দেখা দিয়েছিল। তবে সেটা মিটে যেতেও বেশিক্ষণ সময় লাগেনি। বিপরীতে যে ‘চেজমাস্টার’ কোহলি আছেন। তিনি যতক্ষণ আছেন, আরসিবি’কে টলানো সম্ভব নয়। আর সেটাই হল। লক্ষ্য অল্প। প্যানিক করলেই মুশকিল। এই অবস্থা থেকে টিম ইন্ডিয়াকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। আর আবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি বড় ম্যাচের প্লেয়ার। টিম ডেভিডের সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করা শুরু করলেন। আর একটা-দু’টো খারাপ বল পেলেই মাঠের বাইরে। ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। ডেভিড ২৪ রানে আউট হলেও লক্ষ্যে অবিচল কোহলি। 

শুধু দেখার অপেক্ষা ছিল যে তাঁর ব্যাট থেকেই জয়ের রানটা আসে কি না। একেবারে শেষ দিকে শুভমান গিল ক্যাচ ধরে নাটকীয় মোড় আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এবারও ভাগ্য ‘প্রিন্সে’র সঙ্গ দিল না। থার্ড আম্পায়ার নটআউট দিলেন। আর অবশেষে ছক্কা মেরে ট্রফি জেতালেন কোহলিই। টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি। যে দলটা ১৮ বছর ট্রফির জন্য বুভুক্ষু ছিল, তারাই এখন সপ্তম স্বর্গে। আর তার মধ্যমণি ‘কিং’ কোহলি। 

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *