রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: সম্পূর্ণ সরকারি পরিকাঠামো থাকলেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর তীব্র সংকটে বন্ধের মুখে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের মালগাঁও এলাকার একমাত্র সরকারি ইংরেজিমাধ্যম বিদ্যালয়টি (Instructor Scarcity)। ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা তলানিতে। কমছে পড়ুয়াও। প্রথম বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০ থাকলেও, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ জনে। এভাবে কতদিন চলবে, তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এখন। তৃণমূল জমানায় অপরিকল্পিতভাবে স্কুল তৈরির জন্য এমন পরিস্থিতি, কটাক্ষ বিজেপি শিবিরের। তবে রাজনীতির লড়াই নয়, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মধ্যে দিয়ে স্কুলটিকে পুনর্জীবিত করুক রাজ্য সরকার, চাইছেন স্থানীয়রা।
গ্রামে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের মালগাঁও এলাকায় ২০২১ সালে মডেল স্কুলটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার। ইংরেজিমাধ্যম স্কুলটিকে ঘিরে প্রথম দিকে এলাকাবাসীও ভীষণ উৎসাহী ছিলেন। ২০২২ সালে বা প্রথম বছর ওই বিদ্যালয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একশোর মতো হলেও, বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০-এ। কিছুদিন আগেও শিক্ষকের সংখ্যা ছিল পাঁচ, বর্তমানে সংখ্যাটা তিন। তিনজন শিক্ষকই বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের সমস্ত বিষয়ের ক্লাস নেন। স্কুল সূত্রে খবর, কিছুদিনের মধ্যেই তিনজনের মধ্যে একজন শিক্ষক অবসরগ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষকের সংখ্যা দুইয়ে এসে দাঁড়াবে।
বর্তমান এই পরিস্থিতির জন্য অবশ্য তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বর্তমান শাসক বিজেপি। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হলেও এই স্কুলটির দিকে কেন নজর দেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তৃণমূল জমানায় কালিয়াগঞ্জ সংলগ্ন হেমতাবাদের বিধায়ক সত্যজিৎ বর্মন ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ফলে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্কুলের বর্তমান সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কালিয়াগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক বিজেপির উৎপল ব্রহ্মচারী বলছেন, ‘দু’দিন আগে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। পূর্বতন সরকার মানুষকে চমক দেওয়ার জন্য কিছু কিছু জায়গায় এরকম বিদ্যালয় খুলেছিল, যার কোনও ভিত্তিই ছিল না। গোঁড়ায় গলদ ছিল পুরো সিস্টেমে। এখন আমাদের এগুলো দেখতে হবে।’ স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান উৎপল। অন্যদিকে, সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়গুলি খোলা হয়েছিল তৃণমূল সরকারের আমলে। বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগে তৎপর। তবে যেহেতু সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে হয়, তাই যতদিন না সেই পরীক্ষা হচ্ছে, ততদিন অতিথি শিক্ষকদের দিয়েই চালানো হবে। তবে এই ধরনের বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আমরা শীঘ্রই করব।’

