Kalyan Banerjee | ‘টিআরপি বাড়াতে বিচারপতিরা বেশি কথা বলেন’, কল্যাণের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়

Kalyan Banerjee | ‘টিআরপি বাড়াতে বিচারপতিরা বেশি কথা বলেন’, কল্যাণের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিচারপতিদের নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) ‘টিআরপি’ মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে ‘লাল গালিচা’ মন্তব্য করার পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, আজকাল বিচারপতিরা রায় দেওয়ার চেয়ে টিআরপি (TRP) বাড়ানোর জন্য বেশি কথা বলেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের উপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা (Shehzad Poonawalla )।

উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আগে বিচারপতিদের কম কথা বলতে দেখা যেত, রায় দেওয়ার সময়েই তাঁরা কথা বলতেন। কিন্তু এখন প্রবণতা পালটেছে। আজকাল বিচারপতিরা টিআরপি বাড়ানোর জন্য বেশি কথা বলেন, কিন্তু রায় দেন না। এটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

উল্লেখ্য, ৫ নিখোঁজ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা কি তাদের জন্য লাল গালিচা পেতে দেব? তারা অনুপ্রবেশকারী।” বিচারপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই কল্যাণবাবু এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “প্রধান বিচারপতি হওয়ায় তাঁর মন্তব্যের জবাব দেওয়া শোভা পায় না। তবে আমার বিশ্বাস, কোনও বিচারকেরই এমন হালকা মন্তব্য করা উচিত নয়।”

কল্যাণের এই মন্তব্যের পরেই আসরে নামেন বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। পুনাওয়ালা ‘টিআরপি’র (TRP) বদলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ‘ভিআরপি’—অর্থাৎ ‘ভোট ব্যাঙ্ক রেটিং পয়েন্ট’ (Vote Financial institution Ranking Level) বলে উল্লেখ করেন।

বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূল সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে এবং তারা অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে বিচারবিভাগকে আক্রমণ করছে। পুনাওয়ালা অতীতের কিছু ঘটনাও টেনে এনে বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সেই ব্যক্তি যিনি প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের নকল করেছিলেন এবং পদটিকে উপহাস করেছিলেন। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে হুমকি দেওয়া, সিবিআই এবং এনআইএ-র মতো তদন্তকারী সংস্থাকে আক্রমণের অভিযোগও করেন। পুনাওয়ালা বলেন, “তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’ এবং রোহিঙ্গাদের এত ভালোবাসে যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও আক্রমণ করতে দ্বিধা করে না।”

এই ঘটনায় একদিকে বিচারবিভাগের মন্তব্য, অন্যদিকে তৃণমূল নেতার সরাসরি আক্রমণ এবং তার জবাবে বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *