Industrial Park | ভিডিওকনের ফেলে রাখা জমিতে শিল্প পার্ক, সরকারি উদ্যোগে বাধা লিজের চড়া দাম

Industrial Park | ভিডিওকনের ফেলে রাখা জমিতে শিল্প পার্ক, সরকারি উদ্যোগে বাধা লিজের চড়া দাম

শিক্ষা
Spread the love


সাগর বাগচী, ফুলবাড়ি: বাম আমলে ভিডিওকনকে কারখানা করার জন্য ফুলবাড়িতে (Fulbari) জমি দেওয়া হলেও, সেখানে কারখানা হয়নি। কয়েক দশক ধরে সেই জমি ফাঁকাই পড়ে ছিল। এবার সেই জমিতে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগম নতুন শিল্প পার্ক তৈরি করছে (Industrial Park)।

ভিডিওকনকে দেওয়া জমি (Videocon Land) ও সংলগ্ন আরেকটি জমি নিয়ে ৪ ও ৫ নম্বর ডাবগ্রাম শিল্প পার্ক তৈরি করার জন্য শিল্প উন্নয়ন নিগম পরিকাঠামো গড়ার কাজ করছে। ভিডিওকনের কারখানার জন্য যে জমিটি বরাদ্দ করা হয়েছিল তার মধ্যে থেকে প্রায় ৮ একর জমির ওপর ৪ নম্বর শিল্প পার্কটি হচ্ছে। পাশে থাকা ৭ একর একটি জমির ওপর ৫ নম্বর শিল্প পার্কটি গড়া হবে। রাজ্য ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগম জমি দুটির চারপাশে সীমানা প্রাচীর, রাস্তা, জলনিকাশি ব্যবস্থা, পথবাতির ব্যবস্থা করছে, যাতে সেখানে জমি নিয়ে কারখানা করার জন্য শিল্পপতিদের পরিকাঠামোগত সমস্যা না হয়। তবে নতুন শিল্পপার্ক তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও জমির চড়া দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ শিল্পপতি মহল। চড়া দামে জমি লিজে নিয়ে কারখানা খুললে কতটা লাভের মুখ দেখা যাবে, তা নিয়ে শিল্পপতিরা প্রশ্ন তুলছেন।

বর্তমানে এক কাঠা জমি লিজে নিতে শিল্পপতিদের প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, ‘যেহেতু ১ ও ২ নম্বর শিল্প পার্কের পাশেই  ৪ ও ৫ নম্বর শিল্প পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভালো দিক। কিন্তু জমি লিজে নেওয়ার দাম খুব বেশি রাখা হয়েেছ। শিল্প করতে গিয়ে যদি জমি নেওয়ার খরচ এত বেড়ে যায়, তাহলে শিল্প আমরা করব কোথা থেকে। জমির নেওয়ার খরচ সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে বাইরের পণ্যের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।’

জমি লিজ মানি যাতে কমানো হয়, সেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। প্রস্তাব ছিল, জমির দাম কাঠাপ্রতি এক লক্ষ টাকা যেন করা হয়। কিন্তু তারপরও রাজ্য সেই দাম কমানোর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। সুরজিতের দািব, ‘শিলিগুড়ি থেকে শিল্পপতিরা বিহারে গিয়ে টাকা বিনিয়োগ করছেন। বিহারে একটি বিস্কুট কোম্পানিকে সেখানকার সরকার ১০০ বিঘা জমি এক টাকার বিনিময়ে দিয়েছে। জাতীয় সড়কের পাশে বিহার সরকার শিল্প পার্কে সমস্ত পরিকাঠামো দিয়ে দিচ্ছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি লিজে দিয়েই যেন টাকা আয় করতে চাইছে। সেই কারণে সেভাবে শিল্প আসছে না।’

শিল্পকারখানা করার ক্ষেত্রে যতটা সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার কথা ততটা মিলছে না বলে জানিয়েছেন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর উত্তরবঙ্গের সহ সভাপতি অমল মণ্ডল। অমল বলেন, ‘সরকার যত সুযোগসুবিধা দেবে ততই এই শিল্পতালুকগুলিতে ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পগুলি বাঁচানো যাবে। জমির দাম কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের বিলে সরকার ভরতুকি দিতে পারে। এখানে বড় শিল্পকারখানা করার পরিকাঠামো নেই। জমি নিতেই যদি অনেক টাকা চলে যায়, সেখানে ক্ষুব্ধ শিল্প হবে কী করে?’

এদিকে, জয়গাঁ ও এথেলবাড়িতে শিল্পতালুকের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলেও সেখানে সেভাবে শিল্প আসেনি। ফুলবাড়ি এলাকায় প্রথমে ১ ও ২ নম্বর ডাবগ্রাম শিল্পতালুক গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন কারখানা গড়ে উঠেছে। ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপাইপাড়া এলাকায় ৩ নম্বর ডাবগ্রাম শিল্প পার্কে কারখানার জন্য পরিকাঠামো নিগমের তরফে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সমস্ত জমি শিল্পপতিরা নিয়েছেন বলে খবর। তবে সেখানে এখনও কোনও শিল্পকারখানা চালু হয়নি।

ফুলবাড়িতে শিল্প পার্কে জমি নেওয়ার চাহিদা রয়েছে বলে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগমের এক আধিকারিক দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ৩ নম্বর শিল্প পার্কের সমস্ত জমি শিল্পপতিরা নিয়ে ফেলেছেন। ৪ ও ৫ নম্বর পার্কের পরিকাঠামো এক বছরের মধ্যে তৈরি হবে। সেই জমিও কারখানার গড়তে শিল্পপতিরা নিয়ে নেবেন বলেই আশা করছি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *