সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে ফালাকাটায় ফের দাপিয়ে বেড়াল হাতির পাল। শুক্রবার মাঝরাতে ফালাকাটার ৬ মাইল এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি হাতির একটি বিশাল দল হানা দিয়ে বিঘা বিঘা জমির ফসল সাবাড় করে দিল। রাতভর তাণ্ডব (Elephant Assault) চালানোর পর সকালে সবজি খেতের হাহাকার দেখে মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের।
কুয়াশার আড়ালে অতর্কিতে হানা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত যখন গভীর, তখন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল গোটা গ্রাম। দৃশ্যমানতা কম থাকায় হাতির দলের উপস্থিতি প্রথমে টেরই পাননি কেউ। দক্ষিণ খয়েরবাড়ির বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে হাতিগুলি। বিশাল এই দলটি যখন চাষের জমিতে নামে, তখন কার্যত ধ্বংসলীলা শুরু হয়। কৃষকদের দাবি, হাতিগুলি শুধু ফসল খেয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বিঘার পর বিঘা জমির সবজি মাড়িয়ে নষ্ট করেছে এবং খেতে মলত্যাগ করে চাষের অযোগ্য করে তুলেছে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
এই হানায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় কৃষক মতিন্দ্র দাস। কয়েকদিন আগেই তাঁর তিন বিঘা জমির আলু নষ্ট করেছিল হাতি। শুক্রবার রাতের হানায় তাঁর বাকি সাত বিঘা জমির আলুও তছনছ করে দিয়েছে দলটি। এছাড়া এলাকায় বিনস, লঙ্কা, বাঁধাকপি এবং মিষ্টি কুমড়োর খেতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মরশুমের শেষে লাভের মুখ দেখার বদলে এখন ঋণের দায়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
ফেন্সিং ও নজরদারির দাবিতে বিক্ষোভ
শনিবার সকালে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি বিট ও মাদারিহাট রেঞ্জের আধিকারিক এবং বনকর্মীরা এলাকায় পৌঁছালে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন ও গ্রামের সীমানায় দীর্ঘ এলাকা ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া ছাড়াই পড়ে রয়েছে। বনকর্মীদের টহলদারি ও নজরদারি পর্যাপ্ত নয়। সরকারি যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
বন দপ্তরের আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানিয়েছেন যে, হাতিগুলি জঙ্গল থেকেই খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকেছিল। সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কুয়াশার মরশুমে নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বনকর্মীরা।
