India US Relations | ম্যানিলায় জয়শঙ্কর-রুবিয়ো বৈঠক! চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি

India US Relations | ম্যানিলায় জয়শঙ্কর-রুবিয়ো বৈঠক! চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বহুপ্রতীক্ষিত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান (ASEAN) এবং ‘কোয়াড’ (Quad) বিদেশমন্ত্রী সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar) এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Secretary of State) মার্কো রুবিয়ো (Rubio)। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর ওয়াশিংটনের তরফে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে—ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তির খুঁটিনাটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন একাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বাণিজ্য ও শুল্কনীতি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে জয়শঙ্কর লেখেন, “আমাদের বৈঠকে ভারত-মার্কিন আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়েও আমরা সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেছি।”

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এক্স-পোস্টে জানান যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কোয়াড সম্মেলন এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার করতেই এই আলোচনা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US Division of State) থেকে জারি করা এক পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত বছর ফরাসি শহর এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ-তে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক। দুই পক্ষই একমত যে দ্বিপাক্ষিক অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তিটি খুব দ্রুত রূপ পেতে চলেছে।

এই চুক্তির পথ চলা সহজ ছিল না। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এর সাম্প্রতিক ইতিহাস।

২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ভারতীয় পণ্যের ওপর চাপানো শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হবে। এর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল মার্কিন বিদেশসচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করে মার্চের মধ্যে চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, জাতীয় জরুরি অবস্থার আইন ব্যবহার করে ট্রাম্পের একতরফা আন্তর্জাতিক শুল্পনীতি প্রণয়ন অবৈধ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নেই বলেও জানায় আদালত।

ফলে প্রস্তাবিত আইনি খসড়া নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, ম্যানিলায় জয়শঙ্কর-রুবিয়ো বৈঠকের পর সেই আইনি জটিলতা কাটিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ মসৃণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *