উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক (India Indonesia relations) কেবল ভৌগোলিক বা সমুদ্রসীমার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সুতোয় বাঁধা— মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে (Jakarta Parliament) দাঁড়িয়ে এই সুরেই দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দুই দেশের যৌথ ঐতিহ্যকে হাতিয়ার করে আগামী ২৫ বছরের এক নতুন রোডম্যাপের কথা শোনা গেল তাঁর গলায়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় মনে করিয়ে দেন, নালন্দার প্রাচীন জ্ঞান থেকে শুরু করে রামায়ণ ও মহাভারতের মহাকাব্যিক ঐতিহ্য— দুই দেশের অন্তরাত্মাকে এক করে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার ‘ভায়াং’ (ছায়াপুতুল নাচ), ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত এবং বরোবুদুর ও প্রাম্বানানের মতো মহিমান্বিত স্থাপত্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় প্রতীক ‘গরুড়’ থেকে শুরু করে ওড়িশার ‘বালি যাত্রা’ উৎসব, আমাদের যোগসূত্র সর্বত্র।”
একই সঙ্গে কূটনৈতিক গুরুগম্ভীর আলোচনার মাঝেও হালকা ছোঁয়া এনে মোদী বলেন, “খাবারের স্বাদের কথাই যদি ধরা যায়, তবে ‘ক্রুপুক’ (ইন্দোনেশিয়ান চিপস) নাকি ভারতের ‘পাপড়’— কোনটা বেশি মুচমুচে তা নির্ধারণ করা কঠিন! তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, আমাদের জীবনে ভারতীয় মশলা এবং ইন্দোনেশিয়ান ‘বুম্বু’ (মশলা)-র ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই দেশের বন্দর ও জাহাজ সংস্কৃতি ও বাণিজ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমান সময়কে ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “চলতি শতাব্দীর প্রথম ২৫ বছর আমরা পার করেছি। আগামী ২৫ বছর আমাদের দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে গোটা মানবজাতির কল্যাণে কাজ করবে।”
এদিন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর (Prabowo Subianto) সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রসায়নের এক অনন্য ছবি ধরা পড়ে মোদির বক্তব্যে। সকালে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও-র করা ‘কপিরাইট’ সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘনভাবে বলেন, “এই ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্বের ওপর কারও একক কপিরাইট বা স্বত্বাধিকার থাকতে পারে না। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও-র সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব সমস্ত কপিরাইটের সীমানা ছাড়িয়ে বহু ঊর্ধ্বে।” কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি আরও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়াল, যা আগামী দিনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

