উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে এবার অত্যন্ত দ্রুত বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Alliance Assembly Delhi)। সূত্রের খবর, এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে ফোনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দিল্লিতে বিরোধী জোটের শরিক দলগুলির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জ্ঞানেশ কুমার প্রসঙ্গ ছাড়াও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আগামী বুধবারের বৈঠকে তীব্র আলোচনা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলি যৌথভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে। সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধিকে দ্রুত বিরোধী জোটের এই বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেছিলেন মমতা। এমনকি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গেও তাঁর এই বিষয়ে কথা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে ফের একবার এককাট্টা হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম ও মমতাপন্থী তৃণমূলের মধ্যেও যোগাযোগের সুর চড়ছে। যদিও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একে কোনো সাধারণ নির্বাচনী বোঝাপড়া হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি আজ এক গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তৃণমূল সহ বিভিন্ন দলকে পাঠানো চিঠির বিষয়ে তিনি জানান, অনেকেই এতে শামিল হওয়ার আগ্রহ দেখালেও মমতাকে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে হবে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। কংগ্রেস ও মমতাপন্থী তৃণমূল সহ গোটা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দাবি, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের বিভিন্ন ইস্যুতেও ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। এবার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে ফের মুখোমুখি বসছেন বিরোধী নেতারা। উল্লেখ্য, এর আগে গত জুনে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

