পলাশীর যুদ্ধকালে স্বপ্নাদেশে শুরু পুজো, খই-গুড়েই সন্তুষ্ট মা! ২৬৯ বছরে আসানসোলের কর্মকার বাড়ির পুজো

রাজ্য/STATE
Spread the love


সালটা ১৭৫৭। ‘বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল রাজদণ্ডরূপে’। বাংলা তথা ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একাধিপত্যের মেঘ গাঢ় হয়ে উঠেছে! চলছে পলাশীর যুদ্ধ। সেই সময়কালে আসানসোল দক্ষিণের ত্রিরাটের বাসিন্দা নন্দলাল কর্মকারের স্বপ্নে দেখা দিলেন দেবী দুর্গা। দেন স্বপ্নাদেশও। আর তারপরই তিনি টালমাটাল বঙ্গে ঘট প্রতিষ্ঠা করে শুরু করেন দেবীর আরাধনা। কিন্তু দামোদর বন্যায় ভেসে যায় নন্দলালের বাড়ি। তখন তিনি ঘট নিয়ে চলে আসেন বার্নপুরের হীরাপুরে। সেখানে প্রায় ৮০ বছর ঘটেই পূজিত হন দেবী। পরে শুরু মূর্তিপুজো। আজও যে পুজোর ধারা অব্যাহত। 

Durga Puja 2026: Asansol Karmakar bari Puja begins time of Battle of Plassey
পুজোর ২৬৯ বছরের ইতিহাসে ব্রিটিশদের আসা-যাওয়ার সাক্ষ্য বহন করছে আসানসোলের কর্মকারদের পুজো। নিজস্ব চিত্র।

আরও পড়ুন:

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সন্তান না হওয়ায় দুঃখের অন্ত ছিল না নন্দলালের। পরে দেবীর স্বপ্নাদেশ। পুজো শুরু। তারপরই পুত্রসন্তান লাভ। পুজো তো শুরু হল! কিন্তু বন্যা কাড়ল সব কিছু। ত্রিরাট থেকে হীরাপুরে ঘট নিয়ে আসার সময় সেটিও ভেসে যায়। পরে ফের দামোদর থেকেই তা উদ্ধার হয়। এখানে দেবীর মূল ভোগ খই, চাল গুড়ো দিয়ে তৈরি আরশে। সঙ্গে বিভিন্ন ফল তো আছেই। বাড়ির মহিলারাই ভোগ তৈরি করেন। আগে ছাগবলির প্রথা ছিল। কিন্তু অসুবিধার কারণে তা বন্ধ। বদলে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়।

Durga Puja 2026: Asansol Karmakar bari Puja begins time of Battle of Plassey
কর্মকার বাড়ির মন্দির। নিজস্ব চিত্র।

পরিবারের সদস্য নিমাই কর্মকার জানাচ্ছেন, “আমাদের পুজোয় মূল ভোগ খই, আরশে। এ ছাড়াও ফল দেওয়া হয়। বাড়ির মহিলারাই সবটা তৈরি করেন। প্রথমে ঘট পুজো করা হত। পরে মূর্তিপুজো শুরু।” আরেক সদস্য শিবপদ কর্মকার বলেন, “পুজোর প্রতিষ্ঠাতা আমাদের পূর্বপুরুষ নন্দলাল কর্মকারের সন্তান ছিলেন না। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু হয়। পরে সন্তানলাভ। হঠাৎ বন্যায় আমাদের আগের বাড়ি ডুবে যায়। এখানে আসার সময় ঘট ভেসে যায় দামোদরে। আবার তা ফিরে আসে। তারপর থেকে এখানেই পুজো শুরু।” ২৬৯ বছর ধরে চলতে থাকা আসানসোলের কর্মকারদের পুজো আজও ইতিহাসে ব্রিটিশদের আসা-যাওয়ার সাক্ষ্য বহন করছে। আড়াই দশক পেরিয়ে এসে যে পুজো আজও স্থানীয়দের বড় কাছের। আধ্যাত্মিকতা ও ইতিহাসের এহেন সংমিশ্রণ এই পুজোর দ্যুতিকে একই রকম উজ্জ্বল করে রেখেছে এতগুলো বছর ধরে। 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *