সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, আটলান্টা: আটলান্টার ভিড়ে গিজগিজ করা গ্যালারিতে হঠাৎই এক চেনা মুখ। পরনে নকশাপাড় নীল লুঙ্গি, গায়ে নীল-সাদা জার্সি আর চোখে রোদচশমা। সদ্যই ছেলে আরুমলের বিয়ের পাট চুকিয়েছেন। তারপর যে সাততাড়াতাড়ি আটলান্টায় হাজির হবেন, কে ভেবেছিল! কিন্তু তিনি আইএম বিজয়ন। ভারতীয় ফুটবলের ‘কালো হরিণ’। গত ৮ জুলাই দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা শিল্পপতি গোপু নন্দিলাথের সঙ্গে আমেরিকা উড়ে এসেছেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে শুরু করে এই নিয়ে টানা সাতবার গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপ দেখার ব্যক্তিগত মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন বিজয়ন (I.M. Vijayan)।
দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য একটু অন্যরকম কথা শুনিয়েছিলেন। আজন্ম আর্জেন্টিনা সমর্থক হলেও বলেছিলেন, ‘এবার আমি পর্তুগাল আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাতে কাপ দেখতে চাই। কারণ এটাই হয়তো ওর শেষ বিশ্বকাপ।’ রোনাল্ডো, লিওনেল মেসি, নেইমারদের মতো কিংবদন্তিদের বিদায়বেলার একটা অদ্ভুত বিষাদ ছুঁয়ে ছিল তাঁকে। কিন্তু আটলান্টায় সেমিফাইনালের আবহে সেই পুরোনো প্রেমই আবার জেগে উঠেছে। ম্যাচের আগে দেখা হতেই হাসিমুখে লুঙ্গি আর জার্সির দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘আমার সাজগোজ দেখেও বুঝতে পারছেন না? আজ আর্জেন্টিনা ছাড়া আবার কে!’
মেসির এটা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আর দর্শক হিসেবে বিজয়নের সপ্তম। ম্যাচ শেষে দেখা হতেই উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘কী বলেছিলাম? এই আর্জেন্টিনাকে রোখার ক্ষমতা কারও নেই। আর মেসির কোনও তুলনাই হয় না।’ ইংল্যান্ডের মতো কঠিন দলের বিরুদ্ধেও আর্জেন্টিনার এই দাপটের রহস্য কী? অভিজ্ঞ ফুটবলারের চোখে বিজয়নের নিখুঁত বিশ্লেষণ, ‘আসলে এই দলটার বাকিরা মেসির জন্য প্রাণ দিয়ে দিতে পারে। এটা যে মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তা ভেবেই ওরা গোল হজম করলে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। তাছাড়া মেসিও এবার অনেক বেশি পরিণত। নিজের শক্তি বাঁচিয়ে রেখে দারুণ বুদ্ধির ছাপ রাখছে খেলায়।’
রবিবার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল। স্পেনও কি ইংল্যান্ডের মতো ভুল করবে? বিজয়নের সাফ জবাব, ‘স্পেনের কোচ অনেক বেশি চতুর। অন্যের ভুল দেখে ওরা নিশ্চয়ই শিক্ষা নেবে। একটা দারুণ লড়াই দেখতে পাব।’ তবে শেষ পর্যন্ত ওই নীল-সাদা জার্সির দিকেই তাঁর বাজি। বিশ্বমঞ্চের শেষ অধ্যায়ে জাদুকরের হাতে কাপটা উঠলেই যে তাঁর এই দীর্ঘ সফরের ষোলো আনা সার্থক হবে, হাসিমুখে সে কথাই জানিয়ে গেলেন ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি।

