বিশ্বকাপের যুদ্ধ শেষ। এবার কি শুরু হল বোমা-বন্দুকের লড়াই! অভিযোগ, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পরই রণংদেহি মেজাজে ব্রিটিশ নৌসেনা। আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে আর্জেন্টিনার দিকে ধেয়ে আসছে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ, এমনটাই দাবি লিওনেল মেসির দেশের। গোটা ঘটনাটিকে ‘সামরিক অভিযান’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে সুর চড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার বিদেশমন্ত্রী পাবলো কুইরনো।
ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিয়ে। অতীতে সেই নিয়ে যুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে হেরেছে মেসিদের দেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। দুই পক্ষের ফুটবলাররা বিবাদে জড়ান। জটলা হয়। সেসবের মাঝেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উসকে একটি ব্যানার হাতে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন মেসিরা। ওই ব্যানারে লেখা ছিল, “‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ অর্থাৎ ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস বলে ডাকেন। ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের ‘মালিকানা’ দাবি করে মেসিরা যেভাবে পোস্টার নিয়ে মাঠে নেমেছেন, সেটার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইংল্যান্ড।
আরও পড়ুন:
ফুটবল ঘিরে এহেন ধুন্ধুমারের মধ্যেই ‘সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে ইংল্যান্ড, অভিযোগ আর্জেন্টিনার। পাবলোর দাবি, অনুমতি এবং আগাম সতর্কতা ছাড়াই ব্রিটিশ নৌসেনার নজরদারি যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস মেডওয়ে ঢুকে পড়েছিল আর্জেন্টাইন জলসীমায়। এই জাহাজটি মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশেই মোতায়েন করা থাকে। বুধবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই রাতের অন্ধকারে ব্রিটিশ জাহাজ ঢুকে পড়ে বলে পাবলোর অভিযোগ। গোটা ঘটনাটিকে তিনি সামরিক অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে আর্জেন্টিনার ব্রিটিশ দূতাবাসকে চিঠিও দিয়েছে পাবলোর মন্ত্রক।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের দপ্তর থেকে জানানো হয়, আগে থেকেই আর্জেন্টিনার অনুমতি নিয়েছিল যুদ্ধজাহাজ। চিলি ঘুরে আন্টার্কটিকা যাওয়ার কথা ছিল এই জাহাজের, সেই মতো অনুমতি নেওয়া হয়। মেসিরা যতই মাঠে নেমে প্রতিবাদ করুন, ফকল্যান্ডবাসী যে স্বেচ্ছায় ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে মেসিদের মাঠে নামার বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
