Lionel Messi | সমালোচকদের জবাব দিয়ে ফাইনালে মেসি, জয়ের নায়ক এনজোকে স্পটলাইট ছাড়লেন অধিনায়ক

Lionel Messi | সমালোচকদের জবাব দিয়ে ফাইনালে মেসি, জয়ের নায়ক এনজোকে স্পটলাইট ছাড়লেন অধিনায়ক

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, আটলান্টা: সবুজ ঘাসে হাঁটু মুড়ে বসে আছেন তিনি। চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে। মাটিতে ক্রমাগত ঘুষি মেরে যেন নিজেকেই বলছেন, ‘আমি পেরেছি! আরও একবার দেশকে ফাইনালে তুলতে পেরেছি।’ এই কান্না শুধু জয়ের নয়, এ যেন এক মোক্ষম জবাব। ফিফা নাকি তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেয়, জোর করে জিতিয়ে দেয়-এমন অসংখ্য অপমানের জবাব তিনি দিলেন পরপর দুইটি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে। আটলান্টার মাঠে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়ে তাই একা কাঁদলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)

ম্যাচ শেষে তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে বুনো উল্লাসে মেতেছিলেন এনজো ফার্নান্ডেজ। কিন্তু ক্যামেরায় ধরা পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য। মেসি ইশারা করে এনজোকে বলছেন তাঁকে নামিয়ে দিতে। শুধু তাই নয়, সতীর্থদের বুঝিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তের আসল নায়ক এনজো। প্রচারের সবটুকু আলো তাঁরই প্রাপ্য। পনেরো বছর বয়সে যে ছেলেটা মেসিকে অবসর না নেওয়ার অনুরোধ করে চিঠি লিখেছিল, আজ সেই এনজোই জাদুকরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেনাপতি। ৮৫ মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে মেসির নিখুঁত পাস আর এনজোর বাঁকানো শটেই তো ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। এই জন্যই বোধহয় তিনি এমন একজন অধিনায়ক, যাঁর জন্য মাঠে রক্ত-ঘাম এক করতে দুইবার ভাবেন না সতীর্থরা।

অথচ ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়েছিল। জুডে বেলিংহাম এগিয়ে এসে মেসিকে বেশ কিছু কটূ কথা বলেন। শুরুতে ঠান্ডা মাথায় এড়িয়ে গেলেও, একপর্যায়ে মেজাজ হারান রোজারিওর মহাতারকা। আর এই ঘটনাই যেন বারুদে অগ্নিসংযোগ করল। বেলিংহামের কটূক্তি তাঁকে আরও তাতিয়ে দিল। টমাস টুচেল তাঁকে ঘিরে রাখার যে ছক কষেছিলেন, তা নিমিষেই চুরমার হয়ে গেল। মেসি কখনও মাঝমাঠে নেমে এলেন, কখনও উইংয়ে সরে গেলেন। ইচ্ছে করে তিন-চারজন ইংরেজ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিলেন, যাতে এনজো আর লওটারো ফার্নান্ডেজরা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যায়। ফলস্বরূপ এল দুইটি চোখজুড়ানো অ্যাসিস্ট।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে তৃপ্ত মেসি বলেছেন, ‘আমাদের দল কখনও চেষ্টা ছাড়ে না। আমরা ভালো ফুটবল খেলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামি। প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে আটকে রেখে আমরা বুঝিয়ে দিই যে, ম্যাচ জিততে আমাদের অতিরিক্ত সময় লাগে না, আমরা ৯০ মিনিটের মধ্যেই সেটা পারি। আর্জেন্টিনার কোনও মানুষ হারতে ভালোবাসে না।’

রবিবার নিউ জার্সির ফাইনালে কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আটলান্টার এই রাত আবারও প্রমাণ করল, বিশ্বমঞ্চে মেসি আজও এক এবং অদ্বিতীয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *