সামসী: গত প্রায় ১০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে চাঁচল-১ ব্লকের অন্তর্গত চাঁচল (Chanchal) খেজুরিয়া মোড় (৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক) থেকে ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়তের অড়বড়া পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তা (Highway Restore)। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা মেরামতের জন্য প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। ফলে, খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে এলাকার জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির পিচ সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ রাস্তা জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই গর্তগুলিতে হাঁটু সমান জল জমে যাচ্ছে, যার ফলে এক প্রকার যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এই পথ। অথচ, এই বেহাল রাস্তার ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন অলিহন্ডা, কলিগ্রাম, মহানন্দপুর, ভগবানপুর এবং মকদমপুর গ্রাম পঞ্চায়ত এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ১০০-১০০ টোটো, অটো, বাইক ও সাইকেল প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-মাদ্রাসার পড়ুয়া, স্বাস্থ্যকর্মী ও ব্যাংক কর্মীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আলিমুদ্দিন ও আব্দুল মাতিনের অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর ধরে রাস্তার এই কঙ্কালসার দশা। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, তখন কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝাই যায় না। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে পারে না, ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। বহুবার জানিয়েও কাজ হয়নি।
এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন থাহাঘাটি জুনিয়ার হাই মাদ্রাসার (গার্লস) প্রধান শিক্ষিকা সেরিনা রহমান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রধান, বিডিও, পঞ্চায়ত সমিতি, এসডিও, ডিএম, এমএলএ থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি— সকলকেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, কিন্তু এতদিন কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
রাস্তার এই বেহাল দশা স্বীকার করে নিয়েছেন চাঁচল-১ পঞ্চায়ত সমিতির সহসভাপতি জাকির হোসেন। তবে দায় ঝেড়ে ফেলে তিনি বলেন, “এই রাস্তাটি পঞ্চায়ত সমিতির অধীন নয়। এটি প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তা এবং সংস্কারের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। গত ১০ বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল হলেও প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদাসীন। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”
যদিও এলাকার মানুষের জন্য আশার আলো শুনিয়েছেন মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন। তিনি জানান, চাঁচল খেজুরিয়া মোড় থেকে অড়বড়া পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য রাজ্যের ‘এসআরডিএ’ (SRDA) দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। লোকসভা ভোটের আগেই এর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই বেহাল রাস্তা মেরামতের কাজ পুরোদমে চালু হবে।
