Hemtabad | মানুষ ও পশুর ভালোবাসার মর্মান্তিক পরিণতি! হেমতাবাদ থানার আদরের ঘোড়ার শাবক ‘প্রিন্স’-এর মৃত্যুতে শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, হেমতাবাদ: মানুষের সঙ্গে পশুর ভালোবাসার এক অনন্য সম্পর্কের সাক্ষী ছিল হেমতাবাদ (Hemtabad)। সোমবার রাতে সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ল। সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হল হেমতাবাদ থানার (Hemtabad Police Station) সবার আদরের ঘোড়ার শাবক ‘প্রিন্স’-এর। তার মৃত্যুতে শুধু থানার পুলিশকর্মীরাই নন, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

সোমবার রাতে হেমতাবাদে বিজেপির (BJP) পার্টি অফিসের সামনে একটি সরকারি বাসের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয় প্রিন্স। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। পরে তাকে হেমতাবাদ থানা চত্বরে সমাধিস্থ করা হয়।

২০২৪ সালের কালীপুজোর আগে হেমতাবাদ থানা চত্বরে জন্ম হয়েছিল প্রিন্সের। বিদায়ি আইসি সুজিত লামা গর্ভবতী ঘোড়া ‘প্রিন্সেস’কে থানায় এনে স্নেহে লালন-পালন করেছিলেন। পরে জন্ম নেয় প্রিন্স। থানা চত্বরে বড় হয়ে ওঠা দুরন্ত শাবকটি সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছিল। সারাদিন হেমতাবাদ শহরে ঘুরে বেড়ালেও নির্দিষ্ট সময়ে থানায় ফিরে আসত। পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাকে আদর করতেন।

হেমতাবাদ থানার আধিকারিক সমর রায় বলেন, ‘‘প্রিন্স আমাদের পরিবারেরই একজন ছিল। ওর এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। কারও মন ভালো নেই। থানা চত্বরে জন্ম হওয়ায় সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছে সকলের প্রিয় ‘প্রিন্স’কে।’’

প্রিন্সের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ডান-বাম সকলেই। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন ওকে দেখতাম। আদর নেওয়ার জন্য ছুটে আসত। দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। চোখের সামনে প্রিন্সকে দেখেছি। পশুটির মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’

সিপিএম নেতা হান্নান আলি চৌধুরীর কথায়, ‘প্রিন্সকে এই অবস্থায় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। খুব আদরের ছিল। দুষ্টুমি করলেও খুব প্রিয় ছিল আমাদের।’

সমাধিস্থ করার সময় প্রিন্সের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মা প্রিন্সেস। এই দৃশ্য দেখে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই। মানুষের সঙ্গে এক নির্বাক প্রাণীর গভীর ভালোবাসার এই গল্প আজ হেমতাবাদকে চোখের জলে ভাসিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *