উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) পরই উঠে এসেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম (Al-Falah College)। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসূত্র ধরেই প্রথমে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। তারপরেই পুলিশের তদন্তে উঠে আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের নাম। এমনকি সোমবার দিল্লিতে ‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণে জড়িত মূল অভিযুক্তও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কর্মী ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এরা ‘হোয়াইট কলার জঙ্গি নেটওয়ার্কের’ অংশ। আর এরপরই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
এই ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন উমর মহম্মদ সহ মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন শাহিদ এই তিন চিকিৎসকই আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। আর সেই সূত্র ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জড়াতেই এবিষয়ে মুখ খুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সন্দেহভাজনদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও যোগ নেই।
বুধবার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ ভূপিন্দর কৌর আনন্দ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে মর্মাহত। তবে সন্দেহভাজনরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এর বাইরে তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও যোগ নেই। এই ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করার চেষ্টা ‘ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর’ করে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্যতম সন্দেহভাজন মুজাম্মিল শাকিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকা সত্ত্বেও ফরিদাবাদে দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। সেই ঘর দুটি থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। শুধু তাই নয়, মুজাম্মিলের সহকর্মী, মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদের একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং প্রচুর পরিমাণে গুলি। এই মহিলা চিকিৎসক জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা ‘জামাত উল-মোমিনাত’-এর ভারত শাখার প্রধান কি না তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে, বিস্ফোরক উদ্ধারের পর পরই লাল কেল্লার কাছে মারাত্মক বিস্ফোরণটি ঘটে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমস্ত সূত্রগুলিকে একত্রিত করার সময় উমর মহম্মদের নাম উঠে আসে। উমর আল-ফালাহ-এর কর্মী এবং মুজাম্মিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানা যায়। মুজাম্মিলের উপর গোয়েন্দাদের নজরদারি শুরু হওয়ায় এবং মজুত রাখা বিস্ফোরক ধরা পড়ে যাওয়ায় উমর তড়িঘড়ি একটি আত্মঘাতী হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআইএ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দিক তদন্ত করে দেখছে।
