উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর ১ মাসও কাটেনি। ইতিমধ্যেই জন্মাবধি সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের ক্ষোভ, একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগে জেরবার দল। অন্যদিকে লোকসভার দুই বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (KakaliGhoshDastidar) বেনজির সংঘাত, এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। তা পৌঁছে গেছে দিল্লির সংসদ ভবন পর্যন্ত। সম্প্রতি কালীঘাটের পর্যালোচনা বৈঠকে লোকসভার চিফ হুইপ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে ফিরিয়ে দেন। এর পরেই ক্ষুব্ধ কাকলি দেবী প্রথমে ফেসবুক পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। পরে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সহ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। এমনকি তিনি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেন। শুধু এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান মহিলা সাংসদ। সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন বারাসতের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, লোকসভার ভেতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতি বারবার নারীবিদ্বেষী আচরণ ও কটূক্তি করেছেন। এর জন্য কল্যাণের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
এই চিঠির জবাবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পাল্টা ‘নারদাকাণ্ড’কে হাতিয়ার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি দেবীকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “চিফ হুইপ পদ খোয়ানোর রাগে উনি এসব করছেন। উনি তো হাউসেই থাকেন না, ওনাকে কটূক্তি করার সময় কোথায়? নারদ কাণ্ডে উনি ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়ে স্পিকারের কাছে ওঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরুর অনুমতি চেয়েছে। আমি এবার স্পিকারকে চিঠি লিখে জানতে চাইব, কেন ওঁর সাংসদ পদ খারিজের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?”
