হরিশ্চন্দ্রপুরঃ পঞ্চায়েত প্রধানের সরকারি চেয়ারে বসে নথিপত্র যাচাই করছেন এবং সই করছেন এক ব্যক্তি, যিনি প্রধান নন, বরং প্রধানের স্বামী। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের (Harishchandrapur) কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের এমনই এক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রধানের অনুপস্থিতিতে বা তাঁর পরিবর্তে স্বামীর এমন ‘ক্ষমতা প্রয়োগ’ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা যাচ্ছে, প্রধানের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে কাজকর্ম করছেন কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামীমা খাতুনের স্বামী মহম্মদ আজাহারউদ্দিন। তাঁর পাশেই পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ, শামীমা খাতুন প্রধান পদে থাকলেও কার্যত পঞ্চায়েতের যাবতীয় কাজকর্ম এবং সরকারি নথিতে সই করার মতো স্পর্শকাতর কাজও সামলাচ্ছেন তাঁর স্বামী।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএমের টিকিটে জয়ী হয়ে পরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সমর্থনে প্রধান হন শামীমা খাতুন। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গোড়া থেকেই পঞ্চায়েতের মূল ক্ষমতা আজাহারউদ্দিনের হাতেই ছিল।
যদিও শামীমা খাতুনের সাফাই, “আমি কিছুদিন অসুস্থ ছিলাম। জরুরি কিছু কাজের জন্য আমার অনুমতি নিয়েই উনি পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন।” তবে ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ জমা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে একটি রাজনৈতিক ঘটনার জেরে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে আজাহারউদ্দিন বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। ভিডিওটি ওই ঘটনার আগের সময়ের বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের যে উদ্দেশ্য, তা এভাবেই নস্যাৎ করা হচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেতারা খাতুনের বিরুদ্ধেও তাঁর স্বামী আব্দুর রহমানের মাধ্যমে পঞ্চায়েত চালানোর একইরকম অভিযোগ রয়েছে।”
মহিলা জনপ্রতিনিধিদের বদলে তাঁদের স্বামীদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এবং সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করার মতো ঘটনায় স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নিয়মাবলি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

