হরিশ্চন্দ্রপুর: গৃহপালিত পশুপালের জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি। বাংলা থেকে বিহারের (Bihar) ফুলহর নদী লাগোয়া গোবিন্দপুর এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন হলেন এক গৃহবধূ। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর জা। বিহারের আমদাবাদ থানা এলাকার গোবিন্দপুর চর এলাকার ঘটনা। জখম মহিলা মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুরের (Harishchandrapur) দৌলতনগরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলার স্বামী প্রত্যেকেই ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সম্পর্কে তারা দু’জনে আবার তুতো বোন এবং দুই জা। গ্রামের বাড়িতে গবাদি পশুর খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায়, বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে বিহারের ফুলহর নদী সংলগ্ন নির্জন গোবিন্দপুর চরের ভার্সাল ঘাট এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
জখম অপর মহিলা দাবি করেন, ঘাস কেটে ফেরার পথে এক অপরিচিত ব্যক্তি তাদের উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় গৃহবধূকে এবং তাঁর উপরেও চড়াও হয় ওই ব্যক্তি। তিনি কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন। এরপর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে মহিলার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে বিহারের আমদাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। বিহারের মেডিকেল কলেজে দেহ ময়নাতদন্ত হওয়ার পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনার পরই দৌলতনগরে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অবরোধের জেরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। বাংলা ও বিহার পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তবে ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক রহস্যময় তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ (Police)। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, জনবসতি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন এলাকায় তারা কেন ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লঙ্কার গুঁড়োর প্যাকেট উদ্ধার হওয়ায় পুলিশ এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিছক হামলা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত গৃহবধূর বয়ানও পুলিশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হলেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুই রাজ্যের পুলিশ যৌথভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

