Harishchandrapur | খসড়া ভোটার তালিকায় ‘বাংলাদেশি’ লাভলির খাতুনের নাম! নতুন করে বিতর্ক হরিশ্চন্দ্রপুরে

Harishchandrapur | খসড়া ভোটার তালিকায় ‘বাংলাদেশি’ লাভলির খাতুনের নাম! নতুন করে বিতর্ক হরিশ্চন্দ্রপুরে

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


সৌরভ কুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: খসড়া ভোটার তালিকা (Voter Checklist) প্রকাশ হতেই ফের চর্চায় মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অপসারিত তৃণমূল প্রধান লাভলি খাতুন। ‘নকল’ বাবা সাজিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হতেই প্রধান পদ খুইয়েছিলেন লাভলি। অনেকেই ভেবেছিলেন, এসআইআর-এর (SIR) পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে লাভলির নাম। কিন্তু সকলকে ভুল প্রমাণ করে তালিকায় জ্বলজ্বল করছে লাভলি খাতুনের নাম। যা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়।

এক ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে জাল ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট বানিয়েছিল লাভলি খাতুন। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ মহিলা (ওবিসি) সংরক্ষিত ছিল। তারপরই তিনি কংগ্রেস-সিপিএম জোটের সমর্থনের প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করেন। কিন্তু প্রধান পদ গঠনে আস্থা ভোটের সময় যোগ দেন তৃণমূলে।  ওই পঞ্চায়েত একটি সিটের জন্য হাতছাড়া হয়ে যায় কংগ্রেস-সিপিএম জোটের।

এরপরই লাভলি বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিক, শংসাপত্রের নথি ভুয়ো বলে অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রাহেনা সুলতানা-সহ কয়েকজন। আদালতেও মামলা হয়। শংসাপত্রের নথি ভুয়ো প্রমাণিত হওয়ায় তার শংসাপত্র বাতিল হয়। পরে তাকে প্রধান পদ থেকে অপসারিত করে প্রশাসন। এই আবহেই এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন লাভলি। সূত্রের খবর, ২০০২ সালের তালিকায় লাভলির নাম নেই। তিনি সেখানে কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের শেখ মোস্তফাকে বাবা হিসেবে দেখিয়েছেন।

এদিকে খসড়া ভোটার তালিকায় লাভলির নাম এসেছে এবং স্বামীর নাম হিসেবে রবিউল ইসলামের নাম দেওয়া রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লাভলির প্রকৃত নাম নাসিয়া শেখ। ২০১৫ সালে ভারতে তাঁর ভোটার কার্ড ইস্যু হয়। ২০১৮ সালে ইস্যু হয় বার্থ সার্টিফিকেট।

লাভলির যে এলাকার বাসিন্দা, সেই উত্তর শালদহ এলাকার বিএলও (BLO) মজিবর রহমান বলেন, ‘আমার কাজ ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়া। লাভলির বাড়িতে ফর্ম দিয়ে আসি। পরে পূরণ করা সেই ফর্ম নিয়ে আসি। এর বাইরে আমার কিছু বলার বা করার নেই। আমার বুথ থেকে ৩৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আমাকে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।’ অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে লাভলি এবং রবিউলকে একাধিক বার ফোন করা হলে, তাঁরা ফোন ধরেননি।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির (BJP) জেলা সাধারণ সম্পাদক কিষান কেডিয়া বলেন, ‘এগুলো সব শাসকদলের চক্রান্ত। ওরা ইচ্ছা করে ‘বাংলাদেশি’ লাভলির নাম ঢুকিয়েছে। আমরা এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করব, যাতে লাভলি খাতুনের নাম বাদ যায়।’

তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বকসি বলেন, ‘এসআইআর কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। পুরোটাই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে হচ্ছিল। কেন লাভলির নাম খসড়া তালিকায় থাকল সেটা বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *