উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিদেশি দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার প্রধান মাধ্যম এইচওয়ানবি (H-1B) ভিসার (VISA) ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার করার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন নিয়েছিল, তা খারিজ করে দিল মার্কিন ফেডেরাল কোর্ট (US Courtroom)। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল হোয়াইট হাউস (White Home)। তিন বিচারপতির প্যানেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ ফি বা নতুন ট্যাক্স কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি। এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লক্ষ লক্ষ দক্ষ কর্মী এবং ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে।
শুক্রবার মার্কিন ফেডেরাল কোর্টের তিন বিচারপতির প্যানেল ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ভিসা নীতিকে খারিজ করে দেয়। এর আগে গত ৮ জুন বোস্টনের ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ আপিল কর্মী ভিসা ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে আনৈতিক অ্যাখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিল। বিচারকদের মতে, দেশের আইনপ্রণেতা অর্থাৎ কংগ্রেসের কোনো রকম অনুমতি বা অনুমোদন না নিয়েই একতরফাভাবে এই বিশাল অঙ্কের ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা মার্কিন সংবিধান ও আইনি কাঠামোর পরিপন্থী।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়া সহ ২০ জন ডেমোক্র্যাট পন্থী অ্যাটর্নি জেনারেল এই নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হন। বোস্টনের এই মামলায় রাজ্যগুলির মূল যুক্তি ছিল, এই আকাশছোঁয়া ফি নীতির ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক এবং সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী নিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এটি দেশের সামগ্রিক অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে পঙ্গু করে দেবে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে জরুরি কর্মী ও চিকিৎসকদের সংকটের সৃষ্টি হবে।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন রাতারাতি কংগ্রেসের তোয়াক্কা না করেই নতুন এইচওয়ানবি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এক লক্ষ ডলারের এই বিশাল ফি যুক্ত করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান রক্ষা করা। তবে আদালতের সাম্প্রতিক এই রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আদালতে পাল্টা আপিল (Enchantment) করবেন।
মার্কিন আদালতের এই রায়কে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছে প্রবাসী ভারতীয় কমিউনিটি এবং বিভিন্ন টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলি। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও পেশাদারদের উপর থেকে বিরাট আর্থিক ও মানসিক চাপ কমল। স্টেটগুলির পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, আদালতের এই রায়ের ফলে আমেরিকার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্র বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

