Nagrakata | নাগরাকাটায় ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত, ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের

Nagrakata | নাগরাকাটায় ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত, ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : নাগরাকাটা নিয়ে কার্যত ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের। ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি নাগরাকাটা ব্লকে। ডেঙ্গির পাশাপাশি জেলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্লক হিসাবে এক নম্বরে রয়েছে নাগরাকাটা। রাজ্যের মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা। স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গি নিয়ে যথেষ্টই উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জেলা প্রশাসন।

সোমবার ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া সহ বিভিন্ন মশা এবং পতঙ্গবাহিত রোগ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে রাজ্যের জেলাগুলির বৈঠক হয়। রাজ্যের ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় জলপাইগুড়ি প্রথম দিকে থাকায় স্বাস্থ্য ভবন থেকেও বিশেষ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, ‘নাগরাকাটায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নাগরাকাটা ব্লকের ওপর আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ করতে আশাকর্মীদের চা বাগান এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজে জোর দিতে বলা হয়েছে।’

সূত্রের খবর, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে সরকারি ল্যাবরেটরিতে প্রায় সাড়ে পনেরো হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগেও ডেঙ্গি আক্রান্ত নিয়ে রাজ্যের তালিকায় জলপাইগুড়ি অনেকটাই পেছনে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলির পরেই জলপাইগুড়ি জেলার নাম এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এদিন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪৯। এই মুহূর্তে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত ভর্তি রয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি হওয়ায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা।

২০২২ সালে মাল ব্লকে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি হয়েছিল। সেই সময় মূলত বাগ্রাকোট চা বাগানই ডেঙ্গির আঁতুড় হিসাবে চিহ্নিত  হয়। পরবর্তী দুটি বছর জেলায় ডেঙ্গি কার্যত নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এবছর জুলাই মাস থেকে নাগরাকাটা ব্লকে চোখ রাঙাতে শুরু করে ডেঙ্গি। সংশ্লিষ্ট ব্লকের চার্চ লাইন, নাগরাকাটা বাজার, যমুনা মোড়, চাদর লাইন, সার্কাস লাইন, হিলা চা বাগান এবং জিতি চা বাগান এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ সব থেকে বেশি। দেড় মাস আগেও নাগরাকাটা ব্লকে মাত্র ১০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ছিলেন। সেই জায়গায় এদিন পর্যন্ত নাগরাকাটায় ১৮১ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ায় ব্লকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়া আক্রান্তের তালিকাতেও জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নাগরাকাটা ব্লক। চলতি বছর এদিন পর্যন্ত জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৫৮ জনই নাগরাকাটা ব্লকের বাসিন্দা। ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় জেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক। এই ব্লকে চলতি বছর এদিন পর্যন্ত ৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। রাজগঞ্জ এবং মেটেলি ব্লকে ৪৪ জন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার পুরসভাগুলির মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভা। চলতি বছর এদিন পর্যন্ত ১৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *