উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে (Nepal Flash Flood) ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে নেপাল ও চিনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য পথ গিরোং ল্যান্ড পোর্ট (Gyirong put up)। গত ২৬ অগাস্ট নেপালের বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চারপাশের পাহাড়ি রাস্তা, সেতু ও জনপদ মিশে গিয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এই প্রাকৃতিক তাণ্ডব শুধু একটি বাণিজ্য পথকেই ধ্বংস করেনি, বরং চিনের উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর তিব্বত-কাঠমান্ডু রেলওয়ে প্রকল্প নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে কাগজে-কলমে থাকা তিব্বত থেকে কাঠমান্ডু (Kathmandu) পর্যন্ত ৫৫০ কিমি এবং নেপালের ভেতর ৭২ কিমি দীর্ঘ এই রেল প্রকল্পের প্রায় ৯৮.৫ শতাংশই সুড়ঙ্গ ও সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ভূকম্পনপ্রবণ ও ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকি সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে নির্মমভাবে উন্মোচিত হয়েছে। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত পরিকাঠামো ও হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার কারণে এ ধরনের প্রকল্প যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, গিরোংয়ের ধ্বংসলীলা তারই প্রমাণ। এছাড়া প্রকল্পটির কারণে ভারতের মতো নীচের অববাহিকার দেশগুলোর ওপরও বড় ধরনের কৌশলগত ও পরিবেশগত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ত্রিশ শতাংশ চিন-নেপাল বাণিজ্য এবং কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও তীর্থযাত্রার পথ হিসেবে গিরংয়ের এই আকস্মিক পতন নেপালের অর্থনীতিকে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল চিনের কাছে সম্পূর্ণ অনুদানে এই রেল প্রকল্প তৈরির দাবি জানালেও, বেজিংয়ের কাছ থেকে এখনও বড় কোনো আর্থিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বরিত অর্থনৈতিক লাভের আশায় ভঙ্গুর পাহাড়ি উপত্যকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প আর এগিয়ে নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে চিন ও নেপালের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। অন্যথায় প্রকৃতির এই জিঘাংসা ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

