গৌতম চাকি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির (Siliguri Information) কাছাকাছি গুলমা (Gulma Picnic) এলাকায় শীতের মরশুম এলেই বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের টানে প্রতিদিনই পিকনিক করতে আসছেন অসংখ্য মানুষ। তবে উদ্বেগের বিষয়, পিকনিক করতে এসে অনেকেই নদী পার হয়ে মহানন্দা অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঢুকে পড়ছেন। বোর্ডে লেখাও রয়েছে- ‘প্রবেশ নিষেধ’। বিষয়টি জানা ছিল না মহানন্দা অভয়ারণ্যের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিশ্বনাথ প্রতাপের। তাঁর মন্তব্য, ‘সোমবার থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংরক্ষিত অঞ্চলে কখনোই যেতে নেই।’
শীতের এই মরশুমে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলবেঁধে গুলমাতে পিকনিক করতে আসছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলিতে ভিড় খুবই বেশি। গানবাজনা, রান্নাবান্না, ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা সবই চলছে মহানন্দা নদীর চরে। কিন্তু কিছু মানুষ নদী পেরিয়ে চলে যাচ্ছেন সংরক্ষিত এলাকায়। বাদ যাচ্ছে না খুদেরাও। সেখানে অবাধ বিচরণ হাতি থেকে শুরু করে অন্যান্য জীবজন্তুর। তাই যখন-তখন ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
গুলমার বাসিন্দা প্রেম রাই বলেন, ‘প্রতিবছর শীতের শুরু থেকেই এখানে প্রচণ্ড ভিড় হয়। পিকনিক চলছে, আনন্দ-ফুর্তি চলছে, সব ঠিক আছে। তবে আনন্দটা নদীর এপারে সীমাবদ্ধ থাকাই ভালো। দেখা যাচ্ছে, অনেকে নদী পার হয়ে বনের সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে ঢুকে পড়ছেন। সেখানে গিয়ে ছবি তুলছেন। ওখানে যখন-তখন হাতি, চিতাবাঘ বের হয়। সামনাসামনি পড়ে গেলে বেঁচে ফেরা মুশকিল। প্রশাসনের অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত।’
বিষয়টি যে চিন্তাজনক, তা মেনে নিয়েছেন চম্পাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জনক সাহা। তাঁর কথায়, ‘যেখানে বন দপ্তরের (Forest Division) নিষেধাজ্ঞা আছে, সেখানে যাওয়া উচিত নয়। আমরা মানুষকে সচেতন করব।’
