উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তথ্যের অধিকার আইন (RTI) ভারতের গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের হাতের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র। কিন্তু সেই অস্ত্রে এবার কি ভোঁতা হতে চলেছে? বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬’-এ এমন কিছু অভ্যন্তরীণ নথি এবং ড্রাফট রিপোর্টকে আরটিআই-এর আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
যুক্তি: ‘ভয়হীন’ প্রশাসন বনাম ‘অতি-স্বচ্ছতা’
অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ (DEA)-এর যুক্তি বেশ স্পষ্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি অফিসাররা ফাইলের নোটে বা খসড়া রিপোর্টে মন খুলে মতামত দিতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা, আরটিআই-এর মাধ্যমে সেই সব গোপন আলোচনা প্রকাশ্যে চলে এলে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের দাবি:
• সবকিছু প্রকাশ্যে আনলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে যায়।
• কর্মকর্তাদের ‘ভীতিহীনভাবে’ মতামত দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে খসড়া ও নোটশিটকে আরটিআই-এর বাইরে রাখা প্রয়োজন।
• এটি সুশাসনের (Good Governance) স্বার্থেই জরুরি, স্বচ্ছতার বিরোধী নয়।
আন্দোলনকারীদের পালটা: ‘কালো পর্দার’ চেষ্টা?
সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ আরটিআই কর্মী ও সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, ২০০৫ সালের আরটিআই আইনের ধারা ২ (এফ) অনুযায়ী, সরকারি মেমো, ই-মেল, বা খসড়া রিপোর্টও ‘তথ্য’ হিসেবে গণ্য হয়। সমালোচকদের অভিযোগ:”অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া আড়াল করার অর্থ হল জনবিরোধী সিদ্ধান্তগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে নেওয়া। সরকার জবাবদিহিতা এড়াতেই আইনের এই সংশোধনী চাইছে।”
কী বদল হতে পারে?
সমীক্ষা রিপোর্টের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আরটিআই আইনটি ‘পর্যালোচনা এবং সংশোধন’ করা হতে পারে। মূল লক্ষ্য হল— চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত চলা আলোচনার প্রক্রিয়া বা খসড়া নথিপত্রকে পাবলিক ডোমেইন বা সাধারণের নাগালের বাইরে রাখা।
অর্থমন্ত্রীর পেশ করা এই রিপোর্ট আইনে পরিণত হলে সাধারণ নাগরিকের ‘জানার অধিকার’ কতটা খর্ব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাল্লা কোনদিকে ভারি হয়, সেটাই এখন দেখার।
