Dimdima Tea Backyard | ‘দোকানদার আঙ্কল’ থেকে ‘মাস্টারমশাই’, চা বাগানের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন জিতেন্দ্র আগরওয়াল

Dimdima Tea Backyard | ‘দোকানদার আঙ্কল’ থেকে ‘মাস্টারমশাই’, চা বাগানের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন জিতেন্দ্র আগরওয়াল

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: যে হাতে দাঁড়িপাল্লায় চাল, ডাল ও চিনি বেচেন সেই হাতেই নিপুণভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্ক কষেন। এভাবেই দেড় দশকে ডিমডিমার ‘দোকানদার আঙ্কল’ জিতেন্দ্র আগরওয়াল হয়ে উঠেছেন এলাকার মাস্টারমশাই।

চা বাগান বন্ধ হয়, খোলে। আবার অনেকসময় কাজ করে মজুরি জোটে না। শ্রমিক পরিবারের ছেলেরা মাঝপথে পড়াশোনা (Schooling For All) ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। মেয়েরা শহরে বিভিন্ন বাড়িতে কাপড় কাচে, বাসন ধোয়। আর এটাই মানতে পারেন না জিতেন্দ্র। পেশায় তিনি মুদি ব্যবসায়ী। চা বাগানেই দোকান। অথচ নেশা শিক্ষকতা করা। বছরের পর বছর স্থানীয় ছেলেমেয়েদের পড়িয়ে আসছেন। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয় পড়াতে জিতেন্দ্রর ফি মাসে ৩০০ টাকা। তবে অতি দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের তিনি নিখরচায় পড়ান। সকালে গৃহশিক্ষকতা করে তারপর দোকান সামলান। জিতেন্দ্রর কথায়, ‘এলাকার বেশিরভাগ মানুষ খুবই গরিব। আর্থিক অনটনে অনেকের ছেলেমেয়ের পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই একজন মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।’

অর্থের অভাবে বীরপাড়ার (Birpara Information) ডিমডিমা চা বাগানের (Dimdima Tea Backyard) শ্রমিক অলোক এক্কার মেয়ে সান্ত্বনা এক্কার পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছিল। জিতেন্দ্র তাঁকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। এরপর ২০১৩ সালে জিতেন্দ্রর কাছে পড়ে ওই চা বাগানের সেন্ট মারিয়া গোরেথি গার্লস হাইস্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করেন। সান্ত্বনা বর্তমানে গোপালপুর পোস্ট অফিসে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র নিখরচায় পড়ানোই নয়, জিতেন্দ্র স্যর দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের পাশে মানসিকভাবেও থাকেন। আমার বাবা ভীষণ গরিব। প্রথম বছর ফি নিলেও এরপর থেকে স্যর পড়ানোর ফি নেননি। আমাকে উৎসাহ দিয়ে বারবার বলতেন তোকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে।’

কলা বিভাগে স্নাতক জিতেন্দ্র পড়ুয়াদের অঙ্কও শেখান। এজন্য তিনি নিয়মিত অনুশীলন করেন। ৪০ বছর বয়সি ওই তরুণ বিয়ে করেননি। দাদা-বৌদির সঙ্গে থাকেন। তবে সবসময় স্থানীয় খুদেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবেন। তাঁর বক্তব্য, ‘শ্রমিকের ছেলেমেয়েরা শ্রমিক হবে, এটা হয় না। ওরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক। সেই আলো ছড়িয়ে দিক সমাজে।’ এবছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। ফল প্রকাশিত হয়েছে। তাই অন্য ব্যাচগুলি এই মুহূর্তে নেই। এখন তিনি দশম শ্রেণির ২২ জনকে পড়াচ্ছেন। ডিমডিমার সমাজকর্মী সাজু তালুকদারের মন্তব্য, ‘আমাদের এলাকায় জিতেন্দ্র একজন আলোর দিশারি। কোনও স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি না পেলেও তিনি একজন আদর্শ মাস্টারমশাই। বছরের পর বছর দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের তিনি নিখরচায় পড়াচ্ছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *