Gorumara | গরুমারায় কুনকি নিয়ে সতর্কতা, জলদাপাড়ার ঘটনার পর নজরদারি 

শিক্ষা
Spread the love


শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: জলদাপাড়ায় কুনকির আক্রমণে পাতাওয়ালার মৃত্যুর ঘটনার পর এবার গরুমারায়ও (Gorumara) কুনকি হাতি নিয়ে বাড়ানো হচ্ছে সতর্কতা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কুনকির সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে চলেছে বন দপ্তর। শুধু মাহুত ও পাতাওয়ালাই নয়, কুনকি হাতির সংস্পর্শে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রেও জারি হতে চলেছে একাধিক নিয়ম। হাতির আচরণে আচমকা পরিবর্তন ঘটলেও যাতে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

রবিবার সকালে জলদাপাড়ার (Jaldapara) শিসামারা বিটে কুনকি হাতি ‘সুন্দর’-কে পায়ে বেড়ি পরাতে গিয়ে তার হামলার শিকার হন পাতাওয়ালা সাওন টোপ্পো। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। তবে কুনকির হামলায় পাতাওয়ালার মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে গরুমারার ‘মানিক’ নামে কুনকি হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছিল পাতাওয়ালা মাধে খেড়িয়ার। ওই ঘটনার পর বিশিষ্ট হস্তী বিশেষজ্ঞ পার্বতী বড়ুয়াকে দিয়ে মাহুত ও পাতাওয়ালাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পার্বতীর মতে, ‘কুনকি হাতির সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, হাতির আচরণ বোঝার প্রশিক্ষণও জরুরি। বিশেষ করে নতুন পাতাওয়ালাদের অভিজ্ঞ মাহুতদের তত্ত্বাবধানে রেখে কাজ করানো এবং হাতির আচরণে সামান্য পরিবর্তন দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’

বন দপ্তরের (Forest Division) পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে গরুমারায় কুনকির সংখ্যা ৩২। গরুমারা, ধূপঝোরা, গড়াতি, মেদলা ও তন্ডু ক্যাম্পে রাখা হয়েছে হাতিগুলিকে। রয়েছেন ৩১ জন মাহুত ও ২৪ জন পাতাওয়ালা। জলদাপাড়ার ঘটনার পর সোমবার প্রতিটি ক্যাম্পে গিয়ে তাঁদের সতর্ক করেছেন রেঞ্জ অফিসাররা। বন দপ্তরের নির্দেশ, কোনও কর্মী একা কুনকির সামনে যেতে পারবেন না। অন্তত দুজনকে সঙ্গে রাখতে হবে। হাতিকে কোনওভাবেই উত্ত্যক্ত করা যাবে না। আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নতুন পাতাওয়ালাদেরও অভিজ্ঞ মাহুতদের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও বাড়ানো হচ্ছে সতর্কতা। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া হাতির পিঠে ওঠা বা নামা যাবে না। হাতির সামনে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি বা আচমকা কোনও অঙ্গভঙ্গি করা যাবে না। সাফারির সময় অতিরিক্ত উজ্জ্বল পোশাক না পরার জন্যও পর্যটকদের সচেতন করা হবে। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানান, গরুমারায় বেশ কিছু নতুন পাতাওয়ালা রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞ মাহুতদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। কুনকির সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জলদাপাড়ার ঘটনার পর প্রতিটি ক্যাম্পেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন দপ্তরের লক্ষ্য, কর্মী থেকে পর্যটক— কুনকি হাতির সংস্পর্শে থাকা প্রত্যেকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *